‘আমি বলব না কাউকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই সিরিজটাকে দেখছি নতুনদের সুযোগ দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে। তরুণরা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে।’ বাবর আজমকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নের উত্তরে এমনটা বলেছেন মাইক হেসন। তবে বাস্তবতা কি আসলেই এতটা সহজ? হেসনের কথার ভেতরে ঢুকলেই যে পরিষ্কার হয়ে যাবে, বাবরদের বিকল্প খুঁজতে মরিয়া পাকিস্তান।
বিশ্বকাপের ব্যর্থতার ধাক্কা এখনো কাটেনি। তবু নতুন শুরুর খোঁজে পথ হাঁটছে পাকিস্তান। সামনে বাংলাদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ—আর সেই সিরিজকে ঘিরেই আলোচনার ঝড়। অভিজ্ঞ তারকাদের অনুপস্থিতি দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপের ভরাডুবির শাস্তিই বুঝি নেমে এসেছে। বিশেষ করে বাবর আজমের না থাকাটা ইঙ্গিত দিচ্ছিল সে কথারই।
তবে সত্য এটাই যে বাবরের ওপর আর ভরসা রাখার উপায় নেই। পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার আগে যে এখনও একটু সময় আছে, বাঁচার শেষ চেষ্টা যে এখান থেকেই করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মহীনতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বাবর আজম। অবশ্য সাম্প্রতিক বলাটা ভুল হবে বইকি। ২০২৩-এর পর চেনা বাবরকে হারিয়েছে পাকিস্তান। মাঝের সময়টাতে ক্রিকেট বদলেছে, সাথে বদলেছেন বাবরও। তবে সেটা ভিন্ন দুই দিকে। সেকেলে ধাঁচের ব্যাটিং, অধারাবাহিকতা আর ছোট দলের বিপক্ষে নিজেকে জাহির করার দিনটা যে ফুরিয়েছে।
সরাসরি না বললেও অনেকটা ঘুরিয়ে পেঁচিয়েই সেই ইঙ্গিত দিলেন মাইক হেসন। পাকিস্তানের কোচিং দর্শনে বরাবরই একটা বিষয় স্পষ্ট—ভবিষ্যতের দল গড়তে হলে নতুনদের জায়গা করে দিতে হবে। হেসনও ঠিক সেই পথেই হাঁটছেন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নতুন খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করার খুব বেশি সুযোগ পায়নি পাকিস্তান। আর তাই বাংলাদেশের এই সফরটাই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের পরিকল্পনার বড় মঞ্চ।
আর এই মঞ্চটাকে কাজে লাগাতে পারলেই পথ প্রশস্ত হবে অনেকের জন্য। শুধু কি তাই, উপকৃত হবে পাকিস্তান দলও। জোর করে তারকার ভার বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে না হয়তো। আর বাবরদের জন্য বার্তা পৌঁছে যাবে, পারফর্ম করলেই কেবল জায়গা মিলবে দলে।












