রশিদ খান মুখ শুকনো, চোখজুড়ে অসহায়ত্ব, স্বজন হারানোর বেদনা। হাত তুলেছেন স্রষ্ঠার কাছে। তাঁর চার পাশে পাকিস্তানের ক্রিকেটারররা। কি হৃদয় কাঁপানো এক দৃশ্য।
ক্রিকেট মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, মানবিকতা সবসময়ই থাকে সবার উপরে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আরব আমিরাতে মাঠে নামা পাকিস্তান দল সেটা ভুলে যায়নি।
আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খানের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তিন দিন আগে তিনি হারিয়েছেন তাঁর বড় ভাই, হাজি আব্দুল হালিম শিনওয়ারিকে। পরিবারে বড় ভাই মানেই এক অভিভাবক, এক ছায়াতল—যে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

এই কঠিন সময়ে শুধু আফগানিস্তান নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়রাও দাঁড়ালেন রশিদ খানের পাশে। ম্যাচ শেষে পাকিস্তানি ক্রিকেটার শাহীন শাহ আফ্রিদি, ফখর জামান, মোহাম্মদ হারিসসহ আরও কয়েকজন সরাসরি আফগানিস্তান দলের ড্রেসিংরুমে গিয়ে দোয়া করেন রাশিদের প্রয়াত ভাইয়ের জন্য।
মোনাজাত শেষে রশিদ খানকে জড়িয়ে ধরেন শাহীন শাহ। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানান হয় সমবেদনা। বাইশ গজের বুকে নেমে আসে ভাতৃত্ববোধৈর অভিনব এক নজীর। খেলার ভাষা প্রতিযোগিতা হলেও মানবিকতার ভাষা সবসময় একটাই—ভালোবাসা ও সম্মান।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় সমবেদনা ও প্রার্থনা। ম্যাচে জয় এসেছিল পাকিস্তানের ঝুলিতে—৩৯ রানের ব্যবধানে। কিন্তু জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে যে দৃশ্যটি সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছে, তা হলো দুই দলের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু মাঠের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে, আর মাঠের বাইরে সবাই একে অপরের দু:খে-সুখে পাশে দাঁড়ায়।











