বাবর আজম ফিরে এসেছেন পাকিস্তানের টেস্ট দলে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ—এ যেন তাঁর জন্য এক নতুন ভোর, আরেকটি পুনরুত্থানের সুযোগ।
এশিয়া কাপ দলে না থাকাটা তাঁর জন্য ছিল বড় আঘাত, বড় অপমানও বটে। তবে এই প্রত্যাবর্তন শুধু স্বস্তির নয়, বরং সতর্কবার্তাও বয়ে এনেছে। কারণ এখন একটিমাত্র ব্যর্থ সিরিজ মানেই হতে পারে টেস্ট থেকেও ছিটকে যাওয়া।
একসময় পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের আরেক নাম ছিলেন বাবর আজম। কিন্তু, গত কয়েক বছরে তাঁর ব্যাটে সেই ধার নেই। টেস্টে যে জায়গায় তিনি একসময় ভরসার প্রতীক ছিলেন, এখন সেখানে প্রশ্নের ছায়া। তবুও সুযোগ এসেছে, লাল বলে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার।
কিন্তু, তার আগে তাঁকে এড়াতে হবে তিনটি পুরোনো ভুল—যেগুলো বারবার তাঁকে টেনে নিচে নামিয়েছে। প্রথমত, আক্রমণাত্মক মানসিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

টেস্ট ক্রিকেট ধৈর্যের খেলা, ঠিকই। কিন্তু প্রতিটি ভালো ইনিংসের পেছনে আক্রমণাত্মক মনোভাবও থাকে। বাবরের ব্যাটিংয়ে এখন সেই ঝলক কমে গেছে। ফ্ল্যাট পাকিস্তানি উইকেটে তিনি খেলেন অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক ক্রিকেট—ফলে বোলাররা পেয়ে যায় তার ছন্দ ভাঙার সুযোগ।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবার যদি তিনি নিজের পুরোনো ছায়ায় থাকেন, তাহলে রান নয়, বাড়বে প্রশ্ন। দ্বিতীয়ত, ইনকামিং ডেলিভারির ভয় কাটাতে হবে।
২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বোল্ড কিংবাএলবিডব্লিউ হয়েছেন বাবর আজম—২১ ম্যাচে ২২ বার! সংখ্যাটা বলে দেয়, ভেতরে আসা ডেলিভারি এখন তাঁর দুঃস্বপ্ন।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কেশব মহারাজ আছেন, যিনি নিখুঁত আর্ম বল দিতে পারেন। বাবর যদি সেই দুর্বলতাটা দূর না করেন, তবে আবারও সেই একই পরিণতি অপেক্ষা করছে—প্যাডে আঘাত, আর আম্পায়ারের আঙুল ওঠা, এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পা দিয়ে সাজঘরে ফেরা বাদশাহ বাবর।

তৃতীয় ও সর্বশেষ বিষয় হল, টেকনিকে ফিরিয়ে আনতে হবে ভারসাম্য। সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার একবার তাঁকে বলেছিলেন, ‘তোমার ব্যাটিং স্ট্যান্ট অনেক বেশি ছড়ানো। পা দুটি একটু কাছাকাছি আনলে সামনে–পিছনে মুভ করা সহজ হবে, বলের বাউন্সও বুঝতে পারবে ভালোভাবে।’
বাবর সেই পরামর্শে কতটা কাজ করেছেন—সেটাই এখন প্রশ্ন। গাভাস্কারের মতো কিংবদন্তির কথা হয়তো শোনার সময় এসেছে। কারণ, এখন শুধু টেস্টে ভালো খেলার নয়, নিজের ক্যারিয়ার বাঁচানোর লড়াইও শুরু হতে যাচ্ছে। নিজের ভুল থেকে তিনি শিক্ষা নেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।










