লো স্কোরিং থ্রিলারে পাঞ্জাবের কিস্তিমাত

আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে ডিফেন্ডের রেকর্ড এখন পাঞ্জাব কিংসের। প্রীতি জিনতার দল শুধু ম্যাচই জিতলো না, জিতে নিল কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়।

টার্গেট মাত্র ১১২। টি-টোয়েন্টির যুগে এমন লক্ষ্য তো নিছকই সময়ের অপেক্ষা। ৯ ওভারেই বোর্ডে ৭২ রান—আর মাত্র ৪০ রান, হাতে ৭ উইকেট! ক্রিকেটপাগল চোখগুলো তখন হয়ত অন্য ম্যাচে নজর দিতে শুরু করেছে। কিন্তু, পাঞ্জাব তখনও বিশ্বাস করছিল।

তারপরই শুরু ধ্বংসযজ্ঞ। ৭২ থেকে ৭৯—মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে উড়ে গেল ৫ উইকেট! কলকাতা নাইট রাইডার্স রূপ নেয় ধ্বংসস্তূপে। ৭২/৩ থেকে ৭৯/৮—স্কোরবোর্ড যেন কাঁপছিল চাহালের ঘূর্ণির দাপটে।

যুযবেন্দ্র চাহাল—নামটা হয়ত কিছুদিন মলিন ছিল আলোচনায়। ফর্ম, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে যেন হারিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এই ম্যাচে তিনি ফিরলেন। ফিরলেন মায়াবী ঝড় হয়ে।

রাহানের উইকেট দিয়ে শুরু, এরপর একে একে রিংকু, রামানদীপ, রঘুবংশী—সবাইকে ফেরালেন সেই পুরনো জাদুকরির ছোঁয়ায়। চাহালের স্পেলে লেখা হলো ৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট—একটা পুরো ইনিংস যেভাবে ভেঙে পড়ে, তার পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ।

রাসেল অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন। চাহালের শেষ ওভারে ২ ছক্কা, ১ চার—১৬ রান তুলে কিছুটা শঙ্কা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু এখানেই আবির্ভাব সেই আরেক বীরের—মার্কো ইয়ানসেন। রাসেলকে ফিরিয়ে সেই শঙ্কার শেষটুকুও মুছে দেন, সাথে আরও দুই উইকেট।

আর তাতেই লেখা হলো ইতিহাস। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে ডিফেন্ডের রেকর্ড এখন পাঞ্জাব কিংসের। প্রীতি জিনতার দল শুধু ম্যাচই জিতলো না, জিতে নিল কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়।

এই ম্যাচ ছিল শুধুই এক দলের নয়—এ ছিল কামব্যাকের গল্প। চাহালের ফিরে আসা, শ্রেয়াস আইয়ারের পুরনো হিসেব মেটানো, আর পাঞ্জাবের নবজন্ম। শিরোপার যাত্রা তো এখনও অনেক দূর বাকি, কিন্তু আজকের রাত বলছে—সম্ভব সবকিছু। কারণ ক্রিকেট, সে তো শুধুই খেলা নয়—সে এক জীবন্ত রূপকথা।

Share via
Copy link