টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে পাকিস্তানের বিদায়টা তাদের দেশের ক্রিকেটে যেন এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। মাঠের পারফরম্যান্সে ব্যর্থতার পর এবার মাঠের বাইরেও বড় শাস্তির মুখে পড়েছেন বাবর-আফ্রিদিরা। সেমিফাইনালের টিকিট কাটতে না পারায় এবার বিশ্বকাপে যাওয়া খেলোয়াড়দের উপর বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ায় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লক্ষ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। মূলত গ্রুপ পর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে পরাজয় এবং পরবর্তীতে সুপার এইটে ইংল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পরই বোর্ড কর্মকর্তারা এমন কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
যদিও শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি সান্ত্বনার জয় পেয়েছে পাকিস্তান, তবে তা সেমিফাইনালের সমীকরণ মেলাতে যথেষ্ট ছিল না। পিসিবি কর্মকর্তাদের মতে, বারবার আইসিসি ইভেন্টে এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্স আর সহসায় মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

পাকিস্তানের এই ভরাডুবিতে দেশটির ক্রিকেট আঙিনায় এখন শোকের ছায়া। কিংবদন্তি ব্যাটার জাভেদ মিয়াদাদ তার দীর্ঘশ্বাসে সেই যন্ত্রণাই প্রকাশ করেছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দেশের ক্রিকেটীয় শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখার সুযোগ আসে দুই বছরে একবার। কিন্তু বারবার সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়াটা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।’
অন্যদিকে, সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ আঙুল তুলেছেন দল নির্বাচনের দিকে। তার দাবি, নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে নিজেদের প্রমাণের জন্য বারবার সুযোগ দেওয়া হলেও বড় মঞ্চে তারা বারবারই ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখন সময় এসেছে সব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে শুরু করার।’
এই ব্যর্থতার ঝড়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হচ্ছেন বাবর আজম, অধিনায়ক সালমান আলী আঘা, এবং দলের অভিজ্ঞ মুখ শাহীন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। শোনা যাচ্ছে, দেশে ফিরেই নেতৃত্ব থেকে ইস্তফা দিতে পারেন সালমান আলী আঘা।

মাঠের লড়াইয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর পিসিবির এই নজিরবিহীন আর্থিক দণ্ড কেবল একটি শাস্তি নয়, বরং ব্যর্থতার এক চরম দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ। সাবেক তারকাদের ক্ষোভ আর বোর্ডের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পাকিস্তান ক্রিকেটে কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং আমূল পরিবর্তনের এক দীর্ঘ ও কঠিন পথ অপেক্ষা করছে।










