টানা তিনটা আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালে। যার মধ্যে একটি শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে রোহিত শর্মার টিম ইন্ডিয়া। আরও একটি শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেছে দলটি। সেমিফাইনালে প্রতিশোধের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে ধরাশায়ী করেছে ভারত। শেষ বল অবধি নিশ্চিত ছিল না কিছুই। তেমনটি বলেছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
ম্যাচ পরবর্তী প্রেজেন্টেশনে তিনি বলেন, ‘শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। খেলার অর্ধেক পথ পেরিয়ে আমরা মনে করছিলাম যে এটি একটি ভালো স্কোর, এবং আমাদের সত্যিই খুব ভালো ব্যাট করতে হবে। আমি মনে করি, আমরা ব্যাট হাতে খুবই নিখুঁত ছিলাম। আমরা খুব শান্ত ও সংযত ছিলাম।’
দিনশেষে মনে হতে পারে ভারত খুব সহজেই ম্যাচটি জিতে নিয়েছে। কিন্তু বাইশ গজে কোন কিছুই সহজ না। সঠিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নই জয়ের ভেলা ভেড়াতে পারে কাঙ্ক্ষিত তীরে। শান্ত থাকা চাই। শান্তই থেকেছেন বিরাট কোহলিরা। একটা মুহূর্তের জন্যে শ্রেয়াস আইয়ারদের বিচলিত হতে দেখা যায়নি। ২৬৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা যে তাদের হাতের মোয়া। তবে হাতে মোয়া কেড়ে নিতে তো ওস্তাদ অস্ট্রেলিয়া।

কিন্তু সেটা এবার আর হতে দেননি লোকেশ রাহুলরা। যার মূলে রয়েছে একটা ব্যালেন্সড স্কোয়াড। ছয়জন প্রোপার বোলার, আট নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং বিকল্প- এমন ভারসাম্য সচারচর দেখতে পাওয়া যায় না। কিন্তু এক্ষেত্রেও ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের ছিল স্পষ্ট ধারণা।
এ বিষয়ে রোহিত বলেন, ‘এমন কিছু আমি সত্যিই চেয়েছিলাম—ছয়জন বোলিং অপশন এবং ব্যাটিং লাইনআপ আট নম্বর পর্যন্ত গভীর করা। স্কোয়াড তৈরি করার সময় আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের কৃতিত্ব প্রাপ্য।’
কৃতিত্ব প্রাপ্য আরও একজনের, তিনি ‘দ্য চেজ মাস্টার’ বিরাট কোহলি। অসাধারণ দক্ষতায় ভারতের রান তাড়াকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার প্রশংসায় বরাবরই পঞ্চমুখ রোহিত। তিনি বলেন, ‘বিরাট আমাদের জন্য বহু বছর ধরে রান তাড়া করে আসছে। আমরা খুবই শান্ত ছিলাম। আমরা বড় পার্টনারশিপ চাইছিলাম, যা শ্রেয়াস ও বিরাট গড়ে তুলেছিল। এরপর হার্দিকের শেষের দিকের কিছু শটও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

শেষ দিকে হার্দিক পান্ডিয়া বিশাল দুইটা ছক্কা ম্যাচের মোমেন্টাম পুরোপুরি ভারতের পক্ষে নিয়ে এসেছিল। লোকেশ রাহুলের দায়িত্বশীল ইনিংসটি ছিল চেরি অন টপ। এসব কিছুর মিশেলেই আরও একটি শিরোপার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে টিম ইন্ডিয়া। তিন নম্বর ফাইনালটাও জিততে নিশ্চয়ই চাইবে রোহিতরা।











