‘যদি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলি তাহলে আমাকে গুলি করা হবে’

মৃত্যুর হুমকি পেয়েও, ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ৪৪ টি টেস্ট এবং ১০৩ টি ওয়ানডে খেলেছেন ডিফ্রেইটাস। ব্যাট হাতে টেস্টে ১৪.৮২ গড়ে ৯৩৪ রান করেন তিনি। এছাড়া ৩৩.৫৭ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ১৪০ টি।

বর্ণবাদ ইস্যুতে সরব বিশ্ব। খেলাধুলার অঙ্গনেও লেগেছে এর আগুন। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার ফিল ডিফ্রেইটাস এর মধ্যেই নতুন বোমা ফাঁটালেন। কৃষ্ণাঙ্গ বলে ইংলিশরাই খুন করতে চেয়েছিলো তাঁকে।

স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ডিফ্রেইটাস বলেন, ‘আমি দুই থেকে তিনবার চিঠি পেয়েছিলাম, সেখানে আমাকে বলা হয় – আমি যদি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলি তাহলে আমাকে গুলি করা হবে। বাড়িতে পুলিশী নজরদারী রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম। আমার গাড়িতে আমার নিজের নাম লেখা ছিল, সেটা সরাতে হয়েছে। টেস্ট শুরুর দু’দিন আগে টিম হোটেলে উঠতাম, ভাবতাব খেলবো কি খেলবো না। ওরা আমাকে স্নাইপার দিয়ে গুলি করগে না তো। এই অবস্থায় কিভাবে ক্রিকেটে মনোযোগ রাখবো। তবে, আমি পেরেছিলাম। আমার তীব্র ইচ্ছাশক্তি ছিল। ওদের কাছে আমি হেরে যাইনি।’

মৃত্যুর হুমকি পেয়েও, ইংল্যান্ডের হয়ে ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ৪৪ টি টেস্ট এবং ১০৩ টি ওয়ানডে খেলেছেন ডিফ্রেইটাস। ব্যাট হাতে টেস্টে ১৪.৮২ গড়ে ৯৩৪ রান করেন তিনি। এছাড়া ৩৩.৫৭ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ১৪০ টি।

ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ১৬.০৪ গড়ে ৬৯০ রান ও বল হাতে ১১৫ উইকেটও শিকার করেন ডিফ্রেইটাস। ডিফ্রেইটাস বলেন, ‘ক্রিকেট খেলতে নিজের জীবনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। তবে মৃত্যুর ভয় মাথায় নিয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলাটা আমার জন্য অনেক কঠিনই ছিলো। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আমার দৃঢ় সংকল্প ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলেছি। সেই মানুষগুলোর কাছে কোনভাবেই হার মানতে চাইনি।’

শুধুমাত্র মৃত্যুর হুমকিই নয়, ইংল্যান্ড দলে সুযোগ পেতে শ্বেতাঙ্গদের বিপক্ষে লড়াই করতে হয়েছে ডিফ্রেইটাসকে। তিনি জানান, ‘আমি সবসময় মনে করতাম, দলে সুযোগ পেতে হলে শ্বেতাঙ্গ ক্রিকেটারদের থেকে আমাকে দ্বিগুণ ভালো খেলতে হবে। তারা আমাকে কখনোই স্বাগত জানাতো না। প্রতিবার আমরা মনে হয়েছে, এবারই ইংল্যান্ডের হয়ে হয়তো আমার শেষ ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য মরিয়া ছিলাম এবং এই দৃঢ়তাই আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে।’

একাদশে সুযোগ পাবার পরও ঝামেলার সম্মুখীন হন ডিফ্রেইটাস। তার পারফরমেন্সের কোন সুনাম করতো না দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা। তাই নিজেই নিজেকে সাহস দিতেন ডিফ্রেইটাস। তিনি বলেন, ‘আমাকে কেউ সহায়তা করেনি। দলে আমার কোনো সমর্থন ছিল না। আমার সমর্থক আমি নিজেই ছিলাম। আমার মা সব সময় বলতেন, কখনোই ভাববে না যে তুমি এদের কেউ নও। তারপরও আমি ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে যা অর্জন করেছি, এতে আমি গর্বিত।’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...