রাজস্থানের ক্ষত বাড়িয়ে, নুনের ছিঁটা দিলেন সল্ট

সুযোগের সদ্ব্যবহার করে, পেশিশক্তির প্রদর্শন ঘটালেন তিনি। সুযোগ হাতছাড়া করতে নেই- সে বার্তাই দিলেন ফিল সল্ট।

রাজস্থান রয়্যালসের ক্যাচ মিসের মহড়া। আর সেই ক্ষতে ফিল সল্টের নুনের ছিটা। জ্বলে-পুড়ে ছাড়খার সাঞ্জু স্যামসনের দল। যশ্বসী জয়সওয়ালের দারুণ ইনিংসটিও হারাতে শুরু করে তার মাহাত্ম্য। সল্টের আগ্রাসনে জয়ের ভীত গড়ে ফেলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

আক্রমণাত্মক ফিল সল্ট বেশ উপভোগ্যও বটে। প্রথম পাওয়ার প্লে-তে উপভোগের রাস্তা তিনিই খুলে দিলেন। মারকাটারি ব্যাটিংয়ে মাতিয়ে তোলেন পুরো স্টেডিয়ামকে। প্রথম ছয় ওভারেই ব্যাঙ্গালুরুর স্কোরবর্ডে যুক্ত হয় ৬৫ রান। যার সিংহভাগ রানই এসেছে সল্টের ব্যাট থেকে। আরেকপ্রান্তে থাকা বিরাট কোহলি স্রেফ দর্শকের ভূমিকাই পালন করেছেন।

মাত্র ২৮ বলে ফিফটি রান পূর্ণ করেন ইংলিশ এই ব্যাটার। এই সময়ে পাঁচটি চারের সাথে সাথে চারটি ছক্কাও আসে তার ব্যাট থেকে। তার এমন আগ্রাসনের দায় অবশ্য রাজস্থান রয়্যালসের ফিল্ডারদের উপরও বর্তায়। বেশ কিছু ক্যাচ মিস করেছে রাজস্থান। আগ্রাসী হওয়ার পথ তারাই মূলত খুলে দেয়। সল্ট স্রেফ সেই পথকে অনুসরণ করেছেন।

শেষ অবধি অবশ্য ক্যাচ আউটই হতে হয়েছে ফিল সল্টকে। এর আগে ক্যাচ ছাড়া জয়সওয়াল এদফা অবশ্য ভুল করেননি। মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে বেশ সহজ ভঙ্গিমায় ক্যাচ তালুবন্দী করেন জয়সওয়াল। খানিকটা দায় মোচন করেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।

৩৩ বলে ৬৫ রান তুলে ফেলেন সল্ট। কিন্তু তার বিদায়ের পর থেকেই যেন একটু একটু করে আশার কুড়েঘর বুনতে শুরু করে রাজস্থান। বাবুই পাখির মত প্রতিটা বলেই তারা খড়কুটো কুড়াতে শুরু করেন। কেননা সল্ট নামক ঝড়  তো শেষ হয়েছে। কিন্তু সল্ট টিকে গেলে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই ছিটকে যেতে পারত রাজস্থান। শেষ অবধি তেমনটি হয়নি বলেই হয়ত স্বস্তি রাজস্থানের শিবিরে।

তবে তাতে অবশ্য ফিল সল্টের ইনিংসের গুরুত্ব বা মাহাত্ম্য কোন কিছুই খর্ব হয় না। ছয়টি ছক্কা আর পাঁচটি চারের ইনিংসটিতে সল্টের স্ট্রাইকরেট ছিল প্রায় ১৯৭। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে, পেশিশক্তির প্রদর্শন ঘটালেন তিনি। সুযোগ হাতছাড়া করতে নেই- সে বার্তাই দিলেন ফিল সল্ট।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link