২৭ বলে ৩৩ রানের দূর্দান্ত এক ইনিংস খেললেন ইয়াসির আলী রাব্বি। দলকে জেতালেন, সেই সাথে নিশ্চিত করলেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ স্থান। যে প্রত্যাশার মশাল হাতে তার আগমন ঘটেছিল, সেই প্রত্যাশার এক স্ফুলিঙ্গ চোখে পড়ল এনসিএল টি-টোয়েন্টির ময়দানে।
ঢাকা বিভাগের সাথে ম্যাচটা হেরে গেলে, তিন নম্বরে নেমে যাওয়ার একটা শঙ্কা ছিল। তাতে করে চট্টগ্রাম বিভাগকে খেলতে হতো এলিমিনেটর। একটি সুযোগ, সেখানে হারলেই বাদ- এমন শঙ্কা নিয়ে কেই-বা দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে চায়! চট্টগ্রামও চায়নি।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটি পরিণত হল ১৩ ওভারের লড়াইয়ে। প্রথমে ঢাকা বিভাগ ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে তোল ১১৯ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম ৩৬ রানের হারায় চার উইকেট। পরাজয় তখন মাথায় উপরেই দৌদুল্যমান। কিন্তু শেষ অবধি পরাজয়ের শূল নেমে আসতে পারেনি, ইয়াসির রাব্বির দৃঢ়তায়।

ইয়াসির রাব্বি দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেললেন। বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালালেন। তবে এই সময়কালে মোটেও খোলসবন্দী হননি তিনি। তার ব্যাট চলেছে প্রায় ১৯৬.৩০ স্ট্রাইকরেটে। তিনটি সুবিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছেন রাব্বি সিলেটের আউটার স্টেডিয়ামে। এছাড়াও তার ব্যাট থেকে এসেছে আরও চারটি বাউন্ডারি।
তাকে অবশ্য যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইরফান শুক্কুর। শুক্কুরের ১৫ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংসটি চট্টগ্রামের জয়কে আরও খানিকটা বাস্তবসম্মত করেছে। শেষ অবধি শুক্কুর অপরাজিত থাকতে অবশ্য পারেননি। তবে রাব্বি ঠিকই দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন।
এই জয়ে টেবিল টপার হয়েই প্লে-অফ খেলতে চলেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। তবে বহুদিন বাদে রাব্বির ব্যাটে এমন ইনিংস বড় আক্ষেপই বাড়িয়েছে। জাত মিডল অর্ডার ব্যাটার রাব্বির উপর প্রত্যাশা ছিল ব্যাপক। তিনি দলের ব্যাটিং অর্ডারের কাণ্ডারি হবেন। কিন্তু সেই পথটা আর পাড়ি দেওয়া হয়নি। এখন আর তাকে নিয়ে আলোচনাও হয় না খুব একটা।

এবারের এনসিএলে তিনি চট্টগ্রামকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শিরোপাতেই রাখছেন নজর। শিরোপা জয়ের সাথে সাথে যদি নিজের ব্যাটিংয়ের ঝলকও দেখাতেন পারেন রাব্বি, তাহলেই কেবল খুলে যেতে পারে অবরুদ্ধ সেই দরজা। বাংলাদেশ দলের মিডল অর্ডারে যে দেখা দিয়েছে ক্রাইসিস, রাব্বি হতে পারেন অন্যতম ভরসা।










