রান পাহাড়ের বিষাদসিন্ধু

স্বর্ণালি নয়, রুপালি ট্রফি রাচিনের চোখে-মুখে বিষাদ ছড়িয়ে দিয়েছে। ঠিক যেন ২০১৪ বিশ্বকাপের লিওনেল মেসি।

‘ক্রিকেট একটা নিষ্ঠুর খেলা’- ব্যাস এতটুকুই! একরাশ হতাশা মিশ্রিত এই বাক্য যেন হৃদয়ের রক্তক্ষরণের পুরো গল্প বলে দেয়। রাচিন রবীন্দ্র হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু তবুও বিষন্ন বদনে তিনি বর্ণনা করলেন ক্রিকেটের রুঢ় অধ্যায়। স্বর্ণালি নয়, রুপালি ট্রফি রাচিনের চোখে-মুখে বিষাদ ছড়িয়ে দিয়েছে। ঠিক যেন ২০১৪ বিশ্বকাপের লিওনেল মেসি।

কিন্তু তিনিও হয়ত থাকতে পারতেন সফেদ ব্লেজার গায়ে। টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কারটা আনন্দ তখন গগন ছুঁয়ে যেত অনায়াসে। কি অসাধারণ এক ক্রিকেটার তিনি! কি দারুণ এক প্রতিভা! টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ না খেলেও সবচেয়ে বেশি রান করে ফেলেছেন রাচিন রবীন্দ্র। ফাইনালেও একটা ফায়ারিং শুরু করেছিলেন তিনি। ওই ৩৯ রান সহ ২৬৩ রানের মালিক বা-হাতি এই ব্যাটার।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিস্ময়ের সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন রাচিন রবীন্দ্র। সেবারের টুর্নামেন্টে তিনটি সেঞ্চুরি সহ ৫৭৮ রান করেছিলেন। সেই একই ধারা তিনি বয়ে নিয়ে এসেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে। এবারের আসরে তিনি আরও দুইটি সেঞ্চুরি যুক্ত করেছেন নিজের নামের পাশে।

নির্ভীক এক চরিত্র। একেবারে শীতল স্নায়ুর অবিচল এক দৃঢ়তা। সাবলীল ব্যাটিংয়ের সজীব চিত্রকর্ম হয়ে উঠেছে রাচিনের ব্যাটিং। হাতে শটের পসরা, ম্যাচের পরিস্থিতি পড়তে জানেন, ঝুকিহীন ব্যাটের আঁচড়ে স্নিগ্ধ গ্রামীন নদী আঁকতে জানেন তিনি। শান্ত, সরল ভঙ্গিমায় নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য এক উচ্চতায়।

কিন্তু দিনশেষে হতাশা ছাড়া তার আর জোটেনি তেমন কিছুই। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়া। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শিরোপার একহাত দূরেই থমকে যাওয়া, অপ্রাপ্তির গল্পগুলো যেন সমানতাল ছুঁতে চাইছে তার ব্যাটিংয়ের উচ্চতা।

তবে এসব কিছু তাকে দিচ্ছে হৃদয় খানা আর বিশাল করার শিক্ষা। একদিন না হয়, চ্যাম্পিয়নের শিরোপাও তার হবে। ততদিন অবধি সাবলীল ব্যাটিংয়ে রাচিন লিখে যাক বর্ণিল এক রুপকথা।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link