সলিড ব্যাটার, জেনারেশনাল ট্যালেন্ট

‘জেনারেশনাল ট্যালেন্ট’ রাচিন রবীন্দ্রকে বিশেষায়িত করার জন্যে স্রেফ এতটুকুই যথেষ্ট। ব্যাট হাতে বাইশ গজে রাচিন নামা মানেই রানের বহমান জলধারার সৃষ্টি হবে। রাচিন ব্যাটের ছোঁয়ায় এঁকে দেবন উজ্জ্বল এক রংধনু। মনোমুগ্ধকর সেই দৃশ্য গোগ্রাসে গেলা যাবে দুই চোখে। কি অসধারণ এক প্রতিভা!

‘জেনারেশনাল ট্যালেন্ট’ রাচিন রবীন্দ্রকে বিশেষায়িত করার জন্যে স্রেফ এতটুকুই যথেষ্ট। ব্যাট হাতে বাইশ গজে রাচিন নামা মানেই রানের বহমান জলধারার সৃষ্টি হবে। রাচিন ব্যাটের ছোঁয়ায় এঁকে দেবন উজ্জ্বল এক রংধনু। মনোমুগ্ধকর সেই দৃশ্য গোগ্রাসে গেলা যাবে দুই চোখে। কি অসধারণ এক প্রতিভা!

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে ফেললেন তিনি। দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা এলো সেমিফাইনালের মত বড় মঞ্চে। দক্ষিণ আফ্রিকার মত শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নতুন সময়ের আগমনী বার্তা দিয়ে গেলেন রাচিন রবীন্দ্র। তবে এর আগেই বেজে যেতে নিয়েছিল তার বিদায়ের ঘন্টা।

৯৭ রানে তখন ব্যাটিং করছিলেন রাচিন। লুঙ্গি এনগিডির ছোড়া বল রাচিনের ব্যাটের একেবারে পাশ দিয়ে চলে যায় উইকেটরক্ষকের দস্তানায়। কট বিহাইন্ডের আবেদন জানায় টেম্বা বাভুমা। আম্পায়ার অবশ্য আন্দাজ করতে পেরেছিলেন, সে দফা বেঁচে গেছেন রাচিন। তবে বাভুমা রিভিউ নিলেন। রিভিউতেই দেখা গেল, এক চুল পরিমাণ দূরত্বে উইকেটে টিকে রইলেন রাচিন।

তারপর অবশ্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। দুই বলের ব্যবধানে তিন অংকের সেই ম্যাজিক্যাল ফিগারে পৌঁছে যান বা-হাতি এই ব্যাটার। এর আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি। আইসিসি ইভেন্টকে যেন নিজের সক্ষমতা প্রদর্শনের ব্যক্তিগত মঞ্চে বানিয়ে ফেলেছেন তিনি।

৯৩ বলে ১০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পাঁচটি সেঞ্চুরি রয়েছে তার নামের পাশে। সেই পাঁচটি সেঞ্চুরিই তিনি করেছেন ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে। খুব একটা মারকুটে ব্যাটার রাচিন নন। তিনি অনেকটাই টেক্সটবুক ব্যাটার। কিন্তু তবুও রান আর বলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য হতে দেননা।

এমনকি পরিস্থিতি যতই বেগতিক হোক না কেন, তাকে বিচলিত হতে দেখা যায় না। নির্ভার হয়ে তিনি ব্যাট চালান। উইকেটের চারিদিকে শট খেলেন। বলের মেরিট বুঝে ফিল্ডিং পজিশন দেখেশুনে ব্যাট চালান রাচিন রবীন্দ্র। তার ব্যাটিংকে তাইতো খালি চোখে দেখে মনে হয় ‘ফ্ললেস’।

রান করতে তার ঘাম ঝড়াতে হয়, কিন্তু উইকেটে লম্ফঝম্ফ করতে হয় না। ক্ল্যাসিক্যাল সব শটে তিনি রান করে যান। দর্শকদের উপলব্ধি করতে বাধ্য করেন, রান করতে কোন এফোর্ট দিতে হয় না। রাচিনের ব্যাটিংকে এতটাই এফোর্টলেস মনে হয়। পরিশেষে পিউর সলিড ব্যাটার বলেই আখ্যায়িত করতে হয়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link