চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) টেবিলের সবচেয়ে সফলতম দল এখন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। আট ম্যাচ খেলে জয় তুলে নিয়েছে ছয়টিতে। ঢাকা ক্যাপিটালসের সাথে ৭ উইকেটের বিশাল জয়ে পয়েন্ট টেবিলের সবচেয়ে উপরে উঠে এসেছে রাজশাহীর এই নব্য ও সুগঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এ জয় উদযাপন শুধু স্কোরবোর্ডে সীমাবদ্ধ রাখেনি তারা, বরং পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি দিতে খুলে দিয়েছে পুরস্কারের দুয়ার।
দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা করে বোনাস, যা পুরো স্কোয়াডের সম্মিলিত অবদানের স্বীকৃতি। তবে আলাদা করে নজর কাড়ে তিন ক্রিকেটারের জন্য দেওয়া বিশেষ পুরস্কার।
ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে তানজিদ হাসান তামিম, রিপন মণ্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন, এই তিনজনকে দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে বিশেষ বোনাস। অর্থাৎ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যকে আলাদা করে মূল্যায়ন করতে একটুও কার্পণ্য করেনি রাজশাহী শিবির।

এই বোনাস ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় করা এবং মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখা। শুধু জয় নয় বরং দায়িত্বশীল ক্রিকেট, পরিকল্পনা মেনে খেলা এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত, এই বিষয়গুলোই বোনাস নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আগেই জানিয়েছিল, তারা ফলাফলের পাশাপাশি পারফরম্যান্সকেও সমান গুরুত্ব দেবে। ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচ পরবর্তী এই বোনাস ঘোষণা তারই বাস্তব প্রমাণ। ক্রিকেটারদের কাছে এটি নিছক অর্থনৈতিক প্রাপ্তি নয়, বরং একটি বার্তা যে, ভালো খেললে তার স্বীকৃতি মিলবেই। এর আগেও রংপুরের সাথে সুপার ওভারে দারুণ জয় পাওয়ায় জয়ের নায়কসহ দলের সবাইকেই বোনাস দেয় রাজশাহী।
বড় নামের দিকে না ঝুঁকে দলের ভারসাম্য ঠিক রেখে তারুণ্য নির্ভর দল গড়ায় আসর মাঠে গড়ানোর আগে থেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন হান্নান সরকার। এখন তার প্রমাণ যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে মাঠের ক্রিকেটেও। এবারের টুর্নামেন্টে এই ধারা শুরু থেকেই চলমান রেখেছে রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স।

বিপিএল যেখানে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়েই কলুষিত, সেখানে রাজশাহী এক দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে। এতে করে খেলোয়াড়দের মধ্যে ফ্রাঞ্চাইজিকে ঘিরে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে। সর্বোপরী বিপিএলের ভাবমূর্তি উন্নতিতেও পরোক্ষভাবে এই কার্যক্রম ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে।










