ভিনিসিয়াসের পেনাল্টি মিসে রিয়ালের শিরোপা মিস

বার্সেলোনার ফর্ম বিবেচনায় এবারের লা লিগা যে রিয়ালের জন্যে প্রায় শেষ তা বলে দেওয়া যায়। এমন ভঙ্গুর রক্ষণ আর কৌশলের নানা ত্রুটি নিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে আর্সেনালের।

ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পেনাল্টি মিস, আত্মঘাতী গোল আটকে গেল অফসাইডের গ্যারাকলে। তাতে করে যেন লা লিগা জয়ের স্বপ্নও রিয়াল মাদ্রিদের হল ধুলিস্যাৎ। দারুণ প্রতিযোগিতার লা লিগায়, এবার শিরোপা জেতার আরেকটু কাছে চলে গেল চিরপ্রতিদ্বন্দী বার্সেলোনা।

১৭ বছর ধরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু-তে জয়হীন ভ্যালেন্সিয়া। তাই হয়ত মাদ্রিদ ছিল খানিকটা নির্ভার। দূর্গে এসে হারিয়ে দেবে তারা, সেটা হয়ত ভাবনাতেও ছিল না লুকা মদ্রিচদের। কিন্তু শেষ অবধি ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাল ভ্যালেন্সিয়া। নব্বই মিনিট শেষে ইনজুরি টাইমে গিয়ে গোল করেন ভ্যালেন্সিয়ার স্ট্রাইকার হুগো ডুরো। ব্যাস সেখানেই রিয়াল মাদ্রিদের লিগ শিরোপা জেতার সম্ভবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।

এই তো সেদিন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কোপা দেল রে সেমিফাইনালে ৪-৪ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে রিয়াল সোসিয়াদকে হারিয়েছে তারা মোট গোলের ব্যবধানে। সেই ম্যাচের পর উজ্জীবিত রিয়াল মাদ্রিদ লিগ শিরোপার লড়াই বাঁচিয়ে রাখতেই নেমেছিল নিজেদের ঘরের মাঠে। গোলবারের নিচে ছিলেন না থিবো কর্তোয়া কিংবা আন্দ্রে লুলিন।

তৃতীয় পছন্দের গোলরক্ষক ফ্রান গোঞ্জালেসের অবশ্য দায় খুব সামান্যই। এবারের পুরো মৌসুম জুড়েই মাদ্রিদের রক্ষণ একেবারে নড়বড়ে। নিয়মিত খেলোয়াড়দের ইনজুরি দারুণ ভুগিয়েছে দলটিকে। তবে তার থেকেও বেশি ভুগিয়েছে ভুল থেকে শিক্ষা না নেওয়াতে। কর্ণার কিক থেকে গোল হজম করাকে রীতিমত অভ্যাসে পরিণত করেছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা।

ভ্যালেন্সিয়ার অধিনায়ক মোক্তার ডিয়াখাবেয় কর্ণার থেকে হেডে গোল করেন। এর আগে অবশ্য ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুর্বণ সুযোগই এসেছিল মাদ্রিদের কাছে। পেনাল্টি বক্সের ভেতরে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় মাদ্রিদ। দলের অন্যতম সেরা তারকা ভিনিসিয়াসকে দেওয়া হয় শট চালানোর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন ভিনিসিয়াস। তার শট ঠেকিয়ে দেন ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক জিওর্গি মামার্দাশভিলি।

এদিন রিয়ালের বেশ কিছু আক্রমণ ঠেকিয়ে দিয়েছেন জর্জিয়ান এই গোলরক্ষক। তার আগে ভ্যালেন্সিয়ার গোলস্কোরার ডিয়াখাবেয় আক্রমণ থেকে দলকে বাঁচাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। তবে সে যাত্রায় এমবাপ্পে অফসাইডে থাকায় বেঁচে যায় ভ্যালেন্সিয়া। কিন্তু গোল দ্বার পুরোপুরি অক্ষত তারা রাখতে পারেনি। কর্ণার থেকে এদফা গোল করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

১-১ গোলের সমতার ম্যাচটিতে হন্যে হয়ে জয়ের অন্বেষণ চালায় রিয়াল মাদ্রিদ। অলআউট অ্যাটাকের পন্থা বেছে নেয় কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু তাতে বরং লাভের চাইতে ক্ষতি বেশি হয়। কাউন্টার অ্যাটাকে গোল হজম করে বসে রিয়াল মাদ্রিদ। এর ফলে এক ম্যাচ বেশি খেলে বার্সেলোনার সাথে পয়েন্ট ব্যবধান দাঁড়াল তিন পয়েন্টের।

বার্সেলোনার ফর্ম বিবেচনায় এবারের লা লিগা যে রিয়ালের জন্যে প্রায় শেষ তা বলে দেওয়া যায়। এমন ভঙ্গুর রক্ষণ আর কৌশলের নানা ত্রুটি নিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে আর্সেনালের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা নিশ্চয়ই হাত ছাড়া করতে চাইবে না ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link