রিয়ালের ‘বিশ্বাস’ নামল ছাদে আটকে

আর্সেনাল যখন পিএসজিকে নিয়ে পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকবে, রিয়ালের সামনে তখন সবেধন নীলমণি লিগ শিরোপা জয়ের ক্ষীণ আশা টিকিয়ে রাখা, আর অনেকগুলো প্রশ্ন।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো রূপকথা লেখা হয়নি। ছাদবন্ধ স্টেডিয়ামে আর্সেনালের শ্বাসরোধ করতে পারেনি। ৯০ হাজার সমর্থকের গলা ছাড়া চিৎকার, আর্সেনালের নিখুঁত পরিকল্পনায় ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসেছে গ্যালারিতেই। বরং ২-১ গোলের পরাজয়ে রিয়াল মাদ্রিদের লজ্জার ষোলকলা পূর্ণ করেছে।

‘রেমোনতাদা’, ‘১% চান্স, ৯৯% বিশ্বাস’, ‘বার্নাব্যুর দীর্ঘ ৯০ মিনিট’ — এই এক সপ্তাহে ফুটবল মহল ছিলো এমন সব শব্দের দখলে। সোশ্যাল মিডিয়া ছিলো মাদ্রিদিস্তাদের উন্মাদনায় সয়লাব। প্রথম লেগে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকে এমন আশাবাদ স্বাভাবিকই। নামটা যখন রিয়াল মাদ্রিদ, তখন অবিশ্বাস করাটাই বরং পাপ।

জুড বেলিংহ্যাম থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, এমনকি ক্লাবের কর্মকর্তারাও হাওয়া দিয়েছিলেন এই স্বপ্নে। কিন্তু মাদ্রিদের খেলোয়াড়েরাই যেন বিশ্বাস করতে পারেন নি এই বিশ্বাসকে।

প্রথমার্ধে আর্সেনালের গোলরক্ষক যেন ছিলেন পিকনিক মুডে, রিয়ালের আক্রমণভাগের ছয়খানা শটের একটাও ছিলো না অন টার্গেট। উল্টো ১২ মিনিটে ডি-বক্সে কুস্তি করে এসেনসিও উপহার দিলেন এক পেনাল্টি। ভাগ্যিস! কোর্তোয়ার বিস্ময়কর রিফ্লেক্স আর বুকায়ো সাকার আলগা শটে রক্ষা পায় রিয়াল। তবে রক্ষা পেয়েও যে লাভ কিছু হয়নি, সেটা বুঝতে সময় লাগেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে সাকা প্রায়শ্চিত্ত করেন গোল করে। রিয়ালের মাঝমাঠ ছিলো যেন মরুভূমি—ফাঁকা, নিষ্প্রভ। বেলিংহাম ছিলেন আক্রমণভাগে ব্যস্ত, মাঝমাঠ সামলানোর দরকারটাই যেন ভুলে গিয়েছিলেন। ভালভার্দে মাঠজুড়ে দৌড়েছেন ঠিকই, কিন্তু মনে হচ্ছিল গুগল ম্যাপে ভুল লোকেশনে দৌড়াচ্ছেন। চুয়ামেনি? তিনি যেন এ ম্যাচে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার না, দর্শক হয়ে খেলাটা দেখছিলেন পাশে পাশে।

ফাঁকা মাঠেই মার্টিনেল্লি দ্বিতীয় গোলটা দিয়ে বার্নাব্যুর আলো নিভিয়ে দিলেন। আর রিয়াল? তারা তখনো বোঝার চেষ্টা করছে — ‘এরিয়াল ক্রস ছাড়া কীভাবে খেলতে হয়?’ এমবাপ্পে-ভিনির হেডে গোল করার দক্ষতা নেই, এটা তো টিকিট কাটার সময়ই বোঝা উচিত ছিল!

শেষ দিকে ভিনি একটা গোল করলেন বটে, কিন্তু পরাজয়ের তীব্র গন্ধ ছাপিয়ে তা আর ‘রেমোনতাদা’র ঘ্রানটা আনে নি।
এদিন বার্নাব্যুতে রিয়াল আর্সেনালকে ঠেকায় নি, কেউ রিয়ালকেও ঠেকায়নি, বরং আর্সেনাল পায়ে দলিয়ে সেমিফাইনালে চলে গেছে।

আর্সেনাল যখন পিএসজিকে নিয়ে পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকবে, রিয়ালের সামনে তখন সবেধন নীলমণি লিগ শিরোপা জয়ের ক্ষীণ আশা টিকিয়ে রাখা, আর অনেকগুলো প্রশ্ন।

Share via
Copy link