কুমিড়ের খাঁজ কাঁটা লেজের গল্প শুনেছেন নিশ্চয়ই। সবকিছুর শেষে গিয়ে শুরু হয়ে কুমিড়ের খাঁজ কাঁটা শরীরের বর্ণনা। বাংলাদেশের ক্রিকেটও সেই গল্পের মতই। প্রতিটা সিরিজ কিংবা ম্যাচের আগে গিয়ে শুরু হয় একই ধারার ঘটনা প্রবাহ।
চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সিরিজের শুরুতে আলোচনার বিষয়বস্তু হওয়ার কথা ছিল পারফরমেন্স। বাংলাদেশের পরিকল্পনা কি হওয়া উচিত- এসব নিয়ে আলোচনার বদলে এখন আলোচ্য বিষয় নাজমুল হোসেন শান্তর অধিনায়কত্ব।
একটা প্যাটার্ন সৃষ্টি হয়ে গেছে যেন। প্রতিটা ম্যাচ কিংবা সিরিজের আগে ব্যক্তি-নির্ভর ঘটনার অবতারণা হতেই হবে। এবার শান্ত অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান। সেটা বেশ সাহসী সিদ্ধান্ত। তিনি ভাল করতে পারছেন না। ব্যাট হাতে খারাপ সময় কাটছে। নিজেকে চাপমুক্ত করতে চাইছেন। বৃহৎ স্বার্থেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বেশ প্রশংসনীয় একটা উদ্যোগ।

কিন্তু ঠিক সিরিজের মাঝ পথেই কেন এমন সিদ্ধান্তের পালে হাওয়া দিতে হয়? এমন না যে এ’টি কেবলই একটা গুঞ্জন মাত্র। খোদ শান্তই গণমাধ্যমে জানিয়েছেন। এমন সিদ্ধান্তগুলো কেন খেলোয়াড়রা সিরিজ শেষে জানাতে পারেন না?
এই প্রশ্নের উত্তর হয়ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে। সিরিজ বাঁচানোর ছক কষার কথা টিম ম্যানেজমেন্টের। কিন্তু তারা পুরো ফোকাস সেখানে দিতে পারছেন না-কি সে প্রশ্নও তোলা যায়। মাঠের বাইরের ঘটনা বেশ ভাল প্রভাবই ফেলে দলের ভেতর।
প্রথম টেস্টের আগেও এমন ঘটেছে। সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দোলাচলে থেকেছে গোটা দল। এই প্যাটার্ন চলতে থাকলে, আর যাই হোক বাংলাদেশ ক্রিকেট কখনো মাঠের খেলায় নিজেদের পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে না। খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের দিকেও নজর দেওয়া হবে না ঠিকঠাক। তাতে করে নিকস অন্ধকারে পতিত হবে দেশের ক্রিকেট।

কিন্তু এসব নিয়ে যেন কারও ভাবনা নেই। সবার চিন্তার গণ্ডির আত্মকেন্দ্রিক। কেউ বৃহৎ পটের চিত্র কল্পনাতেও আনতে নারাজ। দিনশেষে হতাশাই সঙ্গী। পারফরমেন্স যাক গোল্লায়। ঘুরে ফিরে একই বৃত্তে মাথা ঘুরে পড়ুক দেশের ক্রিকেট।











