শূন্য থেকে শিখরে উঠেছিলেন রিঙ্কু সিং। তার সংগ্রাম, তার প্রতিভা প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বত্র। কিন্তু প্রতিভার সেই ঝলক বিলীন হতে শুরু করেছে। তার ব্যাটে এখন আর নিয়ম করে ওঠে না বাউন্ডারির ঝঙ্কার। রীতিমত এক নিশ্চুপ জনপদে পরিণত হয়েছেন রিঙ্কু সিং।
ইয়াশ দয়ালের ক্যারিয়ারটা প্রায় শেষই করে দিয়েছিলেন রিঙ্কু। তার ওই এক ওভারে পাঁচটি ছক্কা বিষন্নতার নোনা জলে ঠেলে দিয়েছিল ইয়াশকে। সেই ধ্বংসাত্মক রিঙ্কু সিংয়ের ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে।
মোটে ১৬৯ রান করেছেন তিনি আইপিএলের ১৮তম আসরে। যদিও এই পারফরমেন্সও যথেষ্ট ভাল ২০২৪ সালের তুলনায়। সেবার রিঙ্কুর দল কলকাতা নাইট রাইডার্স চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কিন্তু রিঙ্কুর সংগ্রহ ছিল ১৫ ম্যাচে মাত্র ১৬৮ রান। দলের শিরোপা জয়ে যে তার অবদান ছিল সামান্যই- সেটা আর না বলে দিলেও চলছে।

২০২৩ আসরটাই তার কেটেছিল সবচেয়ে ভাল। সেই আসরে ৪৭৪ রান করেছিলেন তিনি। ধারাবাহিক আগ্রাসনের অনবদ্য এক উদাহরণ হয়ে উঠেছিলেন বা-হাতি এই ব্যাটার। এরপর চারিদিকে রিঙ্কুর নাম ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তার হতদরিদ্র জীবনের সংগ্রাম বহু মানুষের হৃদয়ে দোলা দিয়ে গেছে। তার প্রতি সকলের প্রত্যাশাও বেড়েছে।
তিনি মূলত খ্যাতির বিড়ম্বনায় খেই হারিয়েছেন। প্রত্যাশার চাপে নুইয়ে পড়েছেন। তার আগ্রাসনে কিঞ্চিৎ ভাটা পড়েছে। কিন্তু ধারাবাহিকতা যেন অবারিত ধারার স্রোতে ভেসে দূরে সরে গেছে। এখন সম্ভবত রিঙ্কুর উপর পূর্ণ আস্থাও করতে পারে না কলকাতা।
শিরোপা জেতানো অধিনায়ককে ছেড়ে দিলেও, রিঙ্কুকে রেখে দিয়েছিল কলকাতা। কিন্তু এই আস্থার প্রতিদান তিনি এবারের আসরেও দিতে পারছেন না। তাকে কি তবে আলস্য পেয়ে বসেছে? তিনি কি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে ফেলেছেন? সন্তুষ্টি কি তার চোখের পাতায় নিদ্রার সঞ্চার ঘটিয়েছে?











