বাবা নামক ‘বটগাছ’ হারিয়ে ফেললেন রিঙ্কু!

যে মানুষটি তপ্ত দুপুরে সাইকেলের পেছনে ভারী এলপিজি সিলিন্ডার বেঁধে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেন, সেই কাঞ্চন সিং লিভার ক্যানসারের সাথে শেষ লড়াই করে বরণ করে নিয়েছেন চিরনিরবতাকে। তিনি কেবল ভারতের মারকুটে ব্যাটার রিঙ্কু সিংয়ের জন্মদাতা ছিলেন না, ছিলেন সেই সংগ্রামের কারিগর, যার ওপর দাঁড়িয়ে আজ ভারতীয় ক্রিকেটের এক নক্ষত্র ডানা মেলেছে।

​আলিগড়ের অলিগলিতে আজ এক বিষণ্ণ নীরবতা। যে মানুষটি তপ্ত দুপুরে সাইকেলের পেছনে ভারী এলপিজি সিলিন্ডার কাঁধে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেন, সেই কাঞ্চন সিং লিভার ক্যানসারের সাথে শেষ লড়াই করে বরণ করে নিয়েছেন চিরনিরবতাকে। তিনি কেবল ভারতের মারকুটে ব্যাটার রিঙ্কু সিংয়ের জন্মদাতা ছিলেন না, ছিলেন সেই সংগ্রামের কারিগর, যার ওপর দাঁড়িয়ে আজ ভারতীয় ক্রিকেটের এক নক্ষত্র ডানা মেলেছে।

​ভারতীয় ক্রিকেটে কত শত গল্পের জন্ম হয়, কিন্তু রিঙ্কুর গল্পটা ছিল একটু আলাদা। অভাব যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে স্বপ্ন দেখাটাও বিলাসিতা। রিঙ্কু সেই বিলাসিতাটুকু করতে পেরেছিলেন কারণ তাঁর পেছনে পাহাড়ের মতো অটল ছিলেন বাবা কাঞ্চন সিং।

ইন্ডিয়ান অয়েলের ডিস্ট্রিবিউটর হয়ে মানুষের দুয়ারে গ্যাস পৌঁছে দিয়ে যা আয় হতো, তা দিয়ে নিজের সংসার আর ছেলের ক্রিকেটের সরঞ্জাম – দুটোই সামলেছেন অসম্ভব দক্ষতায়। অর্থাভাবে অনেক প্রতিভাই অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়, কিন্তু কাঞ্চন সিং নিজের ঘাম ঝরিয়ে নিশ্চিত করেছিলেন যেন রিঙ্কুর স্বপ্নের পথে কোন বাধা না আসে।

​ছেলে রিঙ্কু আজ ভারতের জার্সি গায়ে বিশ্ব মাতাচ্ছেন। সে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বহুবার অনুরোধ করেছিলেন বাবাকে এই হাড়ভাঙা খাটুনি ছেড়ে দিতে। কিন্তু কাঞ্চন সিং ছিলেন এক অদ্ভুত একরোখা মানুষ। শ্রমই ছিল তাঁর পরিচায়ক।

রিঙ্কুর সাফল্যের পর আলিগড়ের রাস্তায় যখন নীল রঙের ৫ লক্ষ টাকা দামের বাইক নিয়ে তাঁকে কাজে যেতে দেখা যেত, তখন সেই দৃশ্যে বিলাসিতা নয়, ফুটে উঠত একজন জয়ী বাবার নির্ভেজাল তৃপ্তি।

বাবার এই অসুস্থতার কথা শুনে বিশ্বমঞ্চ ছেড়ে রিঙ্কুও ছুটে গিয়েছিলেন তাঁর কাছে। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এ যাত্রাই বাবার কাছে রিঙ্কুর শেষবারের মতো ছুটে চলা। রিঙ্কুর এই পিতা হারানোর বেদনায় শোকস্তব্ধ গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।

ভারতের কিংবদন্তি অফ স্পিনার হরভজন সিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন,”রিঙ্কু সিংয়ের বাবা শ্রী কাঞ্চন সিং জির প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। রিঙ্কু এবং তাঁর পরিবারের জন্য এটি এক চরম পরীক্ষা। ঈশ্বর প্রয়াত আত্মাকে শান্তি দিন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সইবার শক্তি দিন।”

কাঞ্চন সিংয়ের প্রস্থান কেবল একজন মানুষের চলে যাওয়া নয়, বরং একটি নিঃস্বার্থ অধ্যায়ের সমাপ্তি। তিনি শিখিয়ে দিয়ে গেলেন, আভিজাত্য কেবল অর্থবিত্তে নয়, বরং হাড়ভাঙা খাটুনি আর সন্তানের স্বপ্নে ভাগীদার হওয়ার মধ্যেও থাকে।

আজ হয়তো আলিগড়ের সেই গলিতে আর গ্যাসের সিলিন্ডার হাতে তাঁকে দেখা যাবে না, কিন্তু রিঙ্কুর প্রতিটি সাফল্যের বাঁকে, প্রতিটি বাউন্ডারিতে মিশে থাকবে তাঁর সেই ঘামভেজা আশীর্বাদ।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link