রিশাদের গুগলিতে আইরিশদের চোখ ছানাবড়া

তবে সব কিছু ছাপিয়ে, তার নিয়ন্ত্রিত গুগলি বরং বাড়াচ্ছে উচ্ছ্বাস। রিশাদের ডানামেলে উড়ে বেড়ানো যে বহু আক্ষেপের সমাধি ঘটানোর জন্য যথেষ্ট।

দু’টো গুগলি, দু’টো উইকেট। রিশাদ হোসেন আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন কমপ্লিট প্যাকেজ হওয়ার পথে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের বহুদিনের সাধনার প্রতিফলন বাস্তবায়ন করে দেখালেন। চোখের প্রশান্তি জোগানো ডেলিভারিতে তিনি বোঝালেন, রিশাদ হোসেন লম্বা রেসের ঘোড়া।

রিশাদ হোসেনের উত্থানের পর থেকেই তাকে খানিকটা খাটো করার প্রয়াশ চলেছে। তার ঝুলিতে তো লেগ স্পিনারের প্রধান অস্ত্র গুগলিই নেই। এমন একজন লেগস্পিনার নিয়ে কেন এত মাতামাতি? এমন প্রশ্নও ছুড়েছেন বহু লোকে। কিন্তু বয়সটা কেউ বিবেচনায় নেয়নি, সাহসটা তাকে কেউ জোগায়নি।

কিন্তু সেসবে ভ্রুক্ষেপ করেননি রিশাদ। নিজের কাছের মানুষদের তার প্রতি ছিল অগাধ বিশ্বাস। এমনকি জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টও রেখেছিল তার উপর আস্থা। তাইতো রিশাদ নিজের অস্ত্রের ঝুলি করলেন আরও প্রসারিত। বেশ লম্বা সময় ধরেই তিনি নিবিড়ভাবে গুগলিটা সেখার প্রয়াশ করে যাচ্ছিলেন।

পাকিস্তানি কোচ মুশতাক আহমেদ ও শাহেদ মেহমুদ, এই দুইজন তার পরিচর্যায় ঘাম ঝড়িয়েছেন। সুফল পেতে শুরুও করে দিয়েছেন রিশাদ হোসেন। গুগলিতে প্রথম উইকেট হিসেবে শিকার করলেন কার্টিস ক্যাম্ফারকে। যেকোন বোলারের আত্মার তৃপ্তি জোগানো বল ছিল সেটি।

লেগ স্পিন হবে ভেবেই ব্যাট চালিয়েছিলেন ক্যাম্ফার। কিন্তু একই অ্যাকশনে রিশাদ গুগলি ছোড়াও যে রপ্ত করে ফেলেছেন সেটা হয়ত ক্যাম্ফারের ধারণাতে ছিল না। উড়ে গেল স্ট্যাম্প। এরপর পল স্টার্লিংও আক্রন্ত হলেন রিশাদের গুগলিতে। তিনি ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন প্যাভিলিয়নে।

গ্যারেথ ডিলানিকেও তিনি সাজঘরের পথ দেখিয়েছেন। এদিন চার ওভারে ২১ রান খরচায় তিনটি উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। তবে সব কিছু ছাপিয়ে, তার নিয়ন্ত্রিত গুগলি বরং বাড়াচ্ছে উচ্ছ্বাস। রিশাদের ডানামেলে উড়ে বেড়ানো যে বহু আক্ষেপের সমাধি ঘটানোর জন্য যথেষ্ট।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link