সম্মান অনেক সময় শুধু শব্দে বোঝা যায় না। এটা থাকে কোনো মানুষের চোখে, কণ্ঠে, আচরণে, কিংবা তার দৃষ্টিভঙ্গিতে। ক্রিকেটের দুনিয়ায় বাংলাদেশ ঠিক এই জায়গাটাতেই দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে। আমরা ভালো খেললেও প্রশ্ন থাকে, প্রেক্ষাপট কতটা কঠিন ছিল? প্রতিপক্ষের আসল একাদশ ছিল তো? এইসব সন্দেহের দেয়াল তখনই ভাঙা সম্ভব যখন আমাদের ক্রিকেটাররা দেশের জার্সির বাইরে গিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। এই যে এবছর অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ, এটাও যে ওই দেয়াল ভাঙার অংশ।
বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো তাই শুধু টাকা বা অভিজ্ঞতা কামানোর জায়গা নয়, এগুলো সম্মানের পরীক্ষাগার। আইপিএল, বিগ ব্যাশ-এর মতো মঞ্চগুলোতে ভালো পারফর্ম করলে ক্রিকেট বিশ্ব বাধ্য হবে আপনাকে সিরিয়াসলি নিতে। মুস্তাফিজুর রহমান তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আইপিএলে সে যখন নিয়মিত ম্যাচ উইনার, তখন আর সে শুধু ‘বাংলাদেশি পেসার’ থাকে না, সে হয়ে ওঠে ‘ভরসার ডেথ বোলার’। এটাই সেই ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী পরিবর্তন, যা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, পুরো দেশের ক্রিকেটের আত্মমর্যাদা উজ্জ্বল করে।
একইভাবে বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেনের পারফরম্যান্স কেবল কয়েকটি উইকেট নয়, বরং একটা বার্তা। যা বলে যায়, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা শুধু অংশগ্রহণের জন্য আসে না, তারা ম্যাচের ফলাফলের ওপর প্রভাবও ফেলতে পারে। এই বার্তাগুলো যত শক্তিশালী হয়, তত বেশি বদলায় আন্তর্জাতিক বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ, যারা কাউকে সুযোগ দেওয়ার আগে তার যোগ্যতা যাচাই করে। তাদের কাছে আতিথ্য পাওয়াটা তাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বিরাট সম্মানের।

বাংলাদেশের ইতিহাসই প্রমাণ দেয়, সম্মান সহজে আসে না। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র একবারই টেস্ট খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সেটাও ২০০৩ সালে। ২০০৮ সালের পর আর কোন দ্বিপাক্ষীক সিরিজে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের। যা সাক্ষাৎ হয়েছে তা কেবলই আইসিসি ইভেন্টে। তবে এবার কিছুটা গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার গিয়ে টেস্ট খেলবে লিটন দাসরা।
এর পেছনে পরোক্ষভাবে কাজ করছে রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমানরা। আগে পথ দেখিয়েছেন সাকিব আল হাসানের মতো তারকা। বিগ ব্যাশে রিশাদ এখন বড় নাম, এখানে তিনি দলের অন্যতম ভরসা। তাই তো ইংলিশ স্পিনার রেহান আহমেদ দল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর হোবার্ট হ্যারিক্যান্সের অধিনায়ক বলেন, আমাদের রিশাদ আছেন। আর ওই রিশাদের পেছনে তখন ভেসে ওঠে একটা দেশের নাম, ভেসে ওঠে বাংলাদেশের নাম।
রিশাদ-মুস্তাফিজদের প্রতিটি ভালো স্পেল, প্রতিটি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স, এগুলো আমাদের সম্মানের স্তর গড়ে তোলে। এবং এই স্তর যত শক্তিশালী হবে, তত সহজে আমরা অস্ট্রেলিয়ার মাঠে গিয়ে সমান চোখে তাকানোর অধিকার পাবো।












