বিগ ব্যাশে অভিষেকের অপেক্ষায় রিশাদ!

স্বপ্নের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্সের জার্সি গায়ে চাপিয়ে বিগ ব্যাশের মঞ্চে অভিষেক হওয়ার অপেক্ষা এখন। তবে এই অপেক্ষার সুফল মিলবে কি প্রথম ম্যাচে? একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু আছে রিশাদের?

স্বপ্নের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রিশাদ হোসেন। হোবার্ট হারিকেন্সের জার্সি গায়ে চাপিয়ে বিগ ব্যাশের মঞ্চে অভিষেক হওয়ার অপেক্ষা এখন। তবে এই অপেক্ষার সুফল মিলবে কি প্রথম ম্যাচে? একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু আছে রিশাদের?

বেশ আয়োজন করেই রিশাদকে দলে ভিড়িয়েছে হোবার্ট। গতবারও যে এই স্পিনারকে নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল তারা। তবে অনাপত্তিপত্র না মেলায় চ্যাম্পিয়ন দলটিতে থাকতে পারেননি তিনি। এবার আগেভাগে সব রাস্তা পরিষ্কার হয়েছে। বিগ ব্যাশের মঞ্চে পা পড়েছে রিশাদের।

অবশ্য এক বছর আগের রিশাদের সাথে বর্তমান রিশাদের পার্থক্য যে আকাশপাতাল। সময়ের সাথে সাথে নিজেকে আরও শানিত করেছেন তিনি, নিজের অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করেছেন। সময়ের সাথে অভিজ্ঞতাও বেড়েছে তাঁর।

এ বছরে রিশাদ খেলেছেন ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, নামের পাশে উইকেট সংখ্যা ৩৩। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনিই। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেক থ্রু এনে দেওয়া, মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া, গতি নিয়ন্ত্রণ, বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং—সবকিছুতেই রিশাদ এখন সিদ্ধহস্ত। শুধু তাই নয়, ব্যাট হাতেও রিশাদের সক্ষমতা রয়েছে ঝড় তোলার। এমন এক প্যাকেজকে যে কেউ দলে ভেড়াতে চাইবে।

এবার আশা যাক অভিষেকের সম্ভাবনা কতটুকু। বিগ ব্যাশের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দল তিনজন করে বিদেশি খেলোয়াড় খেলাতে পারবে। এক্ষেত্রে হোবার্টের একাদশে ওভারসিস প্লেয়ার হিসেবে রয়েছেন তিনজনই—ক্রিস জর্ডান, রিশাদ হোসেন এবং রেহান আহমেদ। এই হিসেবে তিনজনকে খেলালে রিশাদের জায়গা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

তবে হোবার্ট ম্যানেজমেন্ট যদি চায় তাদের ব্যাটিং ডেপথটা বাড়াতে, সেক্ষেত্রে দুই বিদেশি নিয়েই একাদশ গড়তে পারে। যদি তাই হয়, তবুও রিশাদ একাদশের জন্য প্রথম পছন্দ হবেন। সুতরাং প্রথম ম্যাচেই যে রিশাদের অভিষেক হচ্ছে, তা এক অর্থে বলাই যায়।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, রিশাদ সুযোগ পাবেন, তবে কতটুকু কাজে লাগাতে পারবেন? আসরজুড়ে ভালো করার সম্ভাবনা কতটুকু? বিগ ব্যাশের মাঠ তুলনামূলক বেশ বড় হয়, অর্থাৎ ব্যাটারদের বাউন্ডারি আদায়ের ক্ষেত্রে কিছুটা বেগ পোহাতেই হবে। রিশাদ বোলিং করবেন মিডল ওভারগুলোতে। রানের চাকা সচল রাখতে প্রতিপক্ষ আক্রমণ করতে চাইবেন তাঁকে। আর মিস-টাইমিং হলে রিশাদের হাতে ধরা পড়তে হবে ব্যাটারকে।

তাই তো রিশাদ যে ধরনের বোলার, যে মানের বোলার, তাঁর কাছে সুযোগ থাকবে নিজেকে বিশ্বমঞ্চে আরও একবার প্রমাণ করার। তিনিও নিজের সবটা দিয়ে এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবেন নিশ্চয়।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link