শিকারি নয় শুধু, প্রবল ঝড়ের মাঝেও রিশাদ মিতব্যয়ী

রিশাদ ক্রমশ এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠছেন হোবার্ট হারিকেন্সের। এছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটের বিশাল ভুবনে তিনি উজ্জ্বল এক নক্ষত্র হওয়ার পথেই নিজেকে গড়ে তুলছেন।

রানের বন্যা বয়ে যাওয়া ম্যাচেও রিশাদ হোসেন মিতব্যয়ী। ২০০ ছাড়ানো লক্ষ্যমাত্রা ছুড়ে দিয়েছে সিডনি থান্ডার্স। সেই লক্ষ্যও ছুঁয়ে ফেলে হোবার্ট হারিকেন্স। দুই দলের ব্যাটাররাই ছিলেন ভীষণ মারকুটে। এমন ম্যাচে রিশাদ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন দৃঢ়চেতা চরিত্র হয়ে।

এবারের বিগ ব্যাশে রিশাদ হোসেন নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করে যাচ্ছেন প্রতি ম্যাচেই। উইকেট শিকারের গুরুদায়িত্ব তার কাঁধে তুলে দিয়েছে হোবার্ট হারিকেন্স। উইকেট তুলে নিতে না পারলেও তিনি রান খরচে ভীষণ হিসেবী। এই যেমন সিডনি থান্ডার্সের বিপক্ষে এদিন চার ওভার হাত ঘুরিয়ে স্রেফ ২৯ রান। কোন উইকেট তিনি পাননি।

তিনি ছাড়া তার দলের বাকি বোলারদের বেহাল দশা। সব বোলারই ওভারপ্রতি রান বিলিয়েছেন প্রায় দশ কিংবা তারও বেশি। সেখানে রিশাদের ইকোনমি রেট স্রেফ ৭.২৫। এমনকি প্রতিপক্ষ বোলারদের মধ্যেও কেউ এতটা মিতব্যয়ী হতে পারেননি। থান্ডার্সের ক্রিস গ্রিন বিলিয়েছেন সর্বনিম্ন রান, তবুও তার ইকোনমি ৮.৩৪।

এদিন ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে ডেভিড ওয়ার্নার তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। সেই ওয়ার্নারকেও আটকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টাই চালিয়েছেন রিশাদ। ২০০ স্ট্রাইকরেটে ১৩০ রান করা ওয়ার্নার, রিশাদের বিরুদ্ধে নয় বলে ১৭ রান নিতে সক্ষম হন। এমনকি এই রিশাদই ওয়ার্নারকে আউট করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন।

ওয়ার্নার তখন দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত ২৬ রানে। টিম ওয়ার্ড ডাইভ দিয়েও ক্যাচটা হাতের মুঠোয় এনেও শেষ অবধি ফেলে দেন। নতুবা ম্যাচে এত রান হতো না। রিশাদের ঝুলিতে উইকেট যুক্ত হতো নিদেনপক্ষে একটি। কেননা সিডনি থার্ন্ডার্সের ৬৪ শতাংশ রানই এসেছে ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে।

অতএব রিশাদ ক্রমশ এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে উঠছেন হোবার্ট হারিকেন্সের। এছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটের বিশাল ভুবনে তিনি উজ্জ্বল এক নক্ষত্র হওয়ার পথেই নিজেকে গড়ে তুলছেন। রিশাদের উজ্জ্বলতা একদিন বনে যেতে পারে লাল-সবুজের আলোর উৎস।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link