ঘরের ছেলে পরের মাঠে ঘোরাচ্ছেন ছড়ি। রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিপাকে খাবি খাচ্ছে বিগ ব্যাশের তুখোড় ব্যাটাররা। ঘরের মাঠে পর্দা উঠেছে, দ্বাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের। কিন্তু তাসমান পাড়ে লাল-সবুজের পতাকা ওড়াচ্ছেন রিশাদ সগৌরবে।
বিপিএল মাঠ গড়িয়েছে, কিন্তু রিশাদ নেই। এমন দিন ছিল কল্পনাতীত। কিন্তু বিপিএলের উদ্বোধনী দিনে রিশাদ বাড়িয়েছেন ঋণ। হোবার্ট হারিকেন্সের জার্সি গায়ে আবারও উইকেট শিকারির তালিকাতে বাংলাদেশের রিশাদের অন্তর্ভুক্তি। পার্থ স্কোর্চার্সের ব্যাটিং অর্ডারকে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে দেননি।
তাকে আক্রমণ করে বিপদেই পড়েছেন প্রত্যেকে। কুপার কনোলি থেকে লরি ইভান্স রিশাদের সামনে কারও রুদ্রমূর্তি হয়নি দীর্ঘস্থায়ী। ঘূর্ণিজাদুর মায়াজালে তিনি বন্দী করেছেন তিন ব্যাটারকে। খানিকটা খরুচে ছিলেন বটে। তাতে দলের ক্ষতি হয়েছে খুব সামন্য। উইকেট শিকারি বোলার হিসেবে চার ওভারে ৩৩ রান মোটেও নয় বাড়াবাড়ি।

গুগলি নেই বলে তিরস্কার হওয়া রিশাদ এদিন নিজের প্রথম উইকেটটিই নিলেন গুগলির ধুম্রজাল সৃষ্টি করে। বড় শটের প্রচেষ্টায় থাকা, কুপার কনোলি আটকা পড়লেন মিড অফ অঞ্চলে। এরপরের উইকেট প্রাপ্তিতে নিজের উচ্চতার ব্যবহার করলেন রিশাদ। উইকেট থেকে আদায় করলেন খানিকটা অতিরিক্ত বাউন্স। সেই বলে ফাইন লেগে ক্যাচ পাঠালেন অ্যারন হার্ডি।
ব্যক্তিগত শেষ ওভারে রিশাদ বাইশ গজে এলেন ইনিংসের শেষভাগে। ছক্কা হজম করলেন ইভান্সের কাছ থেকে। কিন্তু ঠিক তার পরের বলেই রিশাদ করলেন শিকার। এবার স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে কাঁটা পড়েন ইভান্স। রিশাদের ঝুলি ভর্তি উইকেট। এবারের বিগ ব্যাশে চার ম্যাচে ছয় উইকেটের মালিক বনে গেছেন রিশাদ হোসেন।
চেনা উঠান ছেড়ে, বিদেশ-বিভূঁইয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশের এক লেগ স্পিনার। প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে ঠেলে দিয়েছেন চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রতিটি প্রতিবন্ধকতা তাকে গড়ে তুলছে আরও খানিকটা পোক্ত করে। লাল-সবুজের জার্সিতে তিনি হয়ে উঠবে দুর্বোধ্য। সেই স্বপ্ন বুনন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।












