হোবার্ট থেকে মিরপুর কিংবা রাজশাহী-বগুড়া, যেখানেই আপনি এখন রিশাদ হোসেনকে ছেড়ে দেন না কেন- তিনি বনে যাবেন চৌকস এক শিকারি। মাঠে নামবেন আর উইকেট কুড়াবেন না সে ধারাকে অসম্ভব বানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশের দারুণ ফর্ম তিনি বয়ে নিয়ে এসেছেন নিজ দেশেও। ঘরোয়া দু’টো টুর্নামেন্টে উইকেট শিকারের তিনি আছেন উপরের সারিতে।
প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে গিয়ে রিশাদ হোসেন বনে গিয়েছিলেন দলটির প্রাণভোমড়া। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে তিনি মাঠ মাতিয়েছেন। অজি কিংবদন্তিদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি হয়ত ভেবেছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের এমন দুর্ধর্ষ পারফরমেন্সের দ্যুতি ছড়াবেন। কিন্তু তা আর হল না। বাংলাদেশের আর আট-দশ খেলোয়াড়ের মত তাকেও নিশ্চয়ই বিষাদ ঘিরে ধরেছিল।

কিন্তু তিনি জানেন পৃথিবীটা ভীষণ রুঢ়। আপনি যা চাইবেন তা যে আপনার মত করেই ধরা দেবে হাতে- তা কখনো হয় না। প্রকৃতি চলে নিজের নিয়মে। সেই নিয়মের ভেলায় চেপেই তো আজ রিশাদ পরিণত হয়েছেন উজ্জ্বল নক্ষত্রে। অগত্যা রিশাদ মনোযোগ দিলেন হাতের সামনে যা কিছু আছে তাতেই।
প্রথমে খেললেন অদম্য বাংলাদেশ। সেখানে যৌথভাবে হয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। পাঁচ খানা উইকেট বাগিয়েছেন তিনি ১৪.৪০ স্ট্রাইকরেটে। এরপর ফরম্যাট বদল। সেখানেও সফল। বিসিএল ওয়ানডেতে তিনি খেলছেন নর্থ জোনের হয়ে। দলটিকে ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।

সাত উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে। যৌথভাবে শীর্ষ উইকেট শিকারি বোলার বাংলাদেশের এই ঘূর্ণি জাদুকর। বুকের ভেতর আক্ষেপের ঝড় পুষে তিনি ঘূর্ণিঝড় তুলছেন বাইশ গজে। এই ধারার ব্যপ্তিকাল অনন্ত হলে মন্দ হতো না বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। তবে সময়ের অন্ধকার দ্রুতই গ্রাস করে সমস্ত উজ্জ্বলতা। তার আগেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে চাইবেন রিশাদ। সে যাত্রাপথেই রয়েছেন তিনি।











