রিশাদের বিবর্তন, তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন

পরিস্থিতির সাথে বোলিং লেন্থ পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য যুক্ত করার প্রক্রিয়া এখনই না শুরু করলে, রিশাদের ক্যারিয়ার চোখের পলকে হয়ে যেতে পারে সংক্ষিপ্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে রিশাদ হোসেনের পারফরমেন্স খানিকটা হতাশার জোগান দিয়েছে বটে। এই বছর সাদা বল হাতে তিনি ১৩ খানা উইকেট বাগিয়েছেন। এ জন্য তার প্রয়োজন হয়েছে ১২ ম্যাচ। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ১০ ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচে থেকেছেন তিনি উইকেট শূন্য।

এই বিষয়গুলো রিশাদের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বটে। কিন্তু আদোতে কি রিশাদ একজন ‘ফেইলড প্রসপেক্ট’? না, রিশাদ বেশ আলাদা। তাকে বলা যেতে পারে ‘স্পেশাল ট্যালেন্ট’। সাধারণত স্পিনার বা লেগ স্পিনার হয়ে থাকে দুই ধরণের। একদল বল টার্ন করায় ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে, আরেকদল জোরের উপর বল করে।

কিন্তু রিশাদ পারেন দু’টোই। তিনি জোরের উপর বলে ঘূর্ণি আদায় করতে পারেন। এমন প্রতিভার কারণেই তিনি বাকিদের থেকে আলাদা। এমনকি তিনি গেম চেঞ্জারও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডাম্বুলায় খেলা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনিই তো ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচের মোড়। শ্রীলঙ্কার ভয়ংকর ব্যাটার পাথুম নিসাঙ্কার প্রতিরোধের দূর্গ ভেঙেছিলেন তিনি। মাত্র ১৮ রান খরচায় নিয়েছিলেন তিনটি উইকেট।

 

এমন বহু ম্যাচের মোমেন্টাম পরিবর্তনের সক্ষমতা রিশাদের মধ্যে রয়েছে। তবে চলতি বছরে তার উইকেটের সংখ্যা কিংবা তার ইকোনমি রেট দিয়ে তাকে এখনই বিচার করা সমীচিন নয়। এমনকি হতাশ হওয়ার বরং অনুচিত। কেননা পরিস্থিতি আর অধিনায়কের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বলি হতে হয়েছে তাকে বেশ কিছু ম্যাচে।

তবে সীমাবদ্ধতা অবশ্যই রিশাদের রয়েছে। কন্ডিশন, ব্যাটার বিবেচনায় তাকে লেন্থ পরিবর্তন করতে দেখা যায় না সচারচর। এ বিষয়টি কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে তার জন্যে। এছাড়াও তার বোলিং বৈচিত্র্য খানিকটা সীমাবদ্ধ। অর্থোডক্স লেগ স্পিন ছাড়া আর স্রেফ ফ্লিপার রয়েছে তার অস্ত্রাগারে। গুগলি আয়ত্ত্বের প্রয়াশে আছেন তিনি। এখনও পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেননি। এছাড়াও প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে তার অন্তত টপ স্পিনটাও নিজের ঝুলিতে যুক্ত করতে হবে রিশাদকে।

কেবল তবেই যে কোন কন্ডিশনে তিনি হয়ে উঠবেন আরও বেশি কার্যকর। পরিস্থিতির সাথে বোলিং লেন্থ পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য যুক্ত করার প্রক্রিয়া এখনই না শুরু করলে, রিশাদের ক্যারিয়ার চোখের পলকে হয়ে যেতে পারে সংক্ষিপ্ত। বহুল প্রত্যাশার পর একজন লেগ স্পিনার পেয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। তিনি অকালেই ঝড়ে পড়ুক তেমনটি মোটেও প্রত্যাশিত নয়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link