বাংলাদেশ সিরিজেই রিজওয়ানকে দিতে হবে অগ্নিপরীক্ষা!

দলের অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন, মোহাম্মদ রিজওয়ানের উপর থেকে আস্থা কমেছে পাকিস্তানের। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রদীপটা নিভু নিভু করছে। শেষ একটা সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সিরিজে। নিভতে বসা প্রদীপটা ঠিকঠাক জ্বালাতে না পারলে ওয়ানডের অধ্যায়ের ইতিটা এখানেই ঘটতে পারে।

দলের অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন, মোহাম্মদ রিজওয়ানের উপর থেকে আস্থা কমেছে পাকিস্তানের। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রদীপটা নিভু নিভু করছে। শেষ একটা সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সিরিজে। নিভতে বসা প্রদীপটা ঠিকঠাক জ্বালাতে না পারলে ওয়ানডের অধ্যায়ের ইতিটা এখানেই ঘটতে পারে।

একটা সময় রান করেছেন, ব্যাটটাকে মেশিন বানিয়ে ফেলেছিলেন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চলমান আতঙ্ক হয়ে ধরা দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য। সেটা অবশ্য ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল নাগাদ। টি-টোয়েন্টির সেরা ব্যাটারের খেতাবটাও নামের পাশে ছিল। তবে রান করলেও একটা বিষয় চোখে পড়ত, পরিষ্কার বাংলায় যা দৃষ্টিকটু। তা হলো স্ট্রাইক রেট। ২০২৩ সালের আগ পর্যন্ত সেটা গায়ে না লাগলেও, আধুনিক ক্রিকেট বদলে যাওয়ার সাথে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে।

এখন আর রিজওয়ান টি-টোয়েন্টিতে চলে না। বাবর আজমকে ব্যাক করালেও রিজওয়ান একেবারেই বিবেচনার বাইরে থেকেছেন। ক্যারিয়ারটা কার্যত শেষ হয়েছে তাঁর। এবার ঘাড়ের উপর নিশ্বাস নিচ্ছে ওয়ানডে ক্রিকেট। এখানেও যে শেষ হওয়ার উপক্রম।

২০২৫ সালে ১৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন রিজওয়ান। ৫৬৯ রান করেছেন প্রায় ৪৪ গড়ে। চার মাস আগে খেলা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ সিরিজে তিন ম্যাচে দুটো ফিফটি আদায় করেছেন। মাঝের সময়টা ধারাবাহিকতার অভাব দেখা দিলেও সংখ্যাগুলো দেখে আপাতদৃষ্টিতে খারাপ বলার সুযোগ নেই। তবে যখন স্ট্রাইক রেটের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন তখন ৭২ সংখ্যাটা খুব বেমানান বটে, বিশেষ করে আধুনিক ক্রিকেটে।

এভাবে চলতে থাকলে ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া নিয়ে সংশয় হবে। তাই বাংলাদেশ সিরিজটা তাঁর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে প্রমাণ করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে।

তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন কি? এখানেও যে সংশয় আছে। বিশেষ করে মিরপুরে অতীতটা খুব একটা সুখকর নয় তাঁর জন্য। ২০১৫ সালে শেষবার এসেছিলেন এই তল্লাটে। তিন ম্যাচে রান করেছিলেন মোটে ৮৪। এক ফিফটি বাদে ব্যর্থতার কালিমা নিয়েই ফিরতে হয়েছিল দেশে। এবারও সেই মিরপুর, তবে চ্যালেঞ্জটা আরও বড়।

বয়সটা ৩৩ পেরিয়েছে অনেক আগেই। শেষ সময়ে এসে দাঁড়িয়েছেন বলা যায়। তাই তো এখান থেকে একবার ছিটকে গেলে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তান অনেক বিকল্প ভাবছে। রিজওয়ান যদি ব্যর্থ হন আর, বিকল্প কেউ যদি লাইমলাইটে চলে আসে তবে এ যাত্রায় এখানেই থামতে হবে তাঁকে। তাই তো বাংলাদেশ সিরিজটাই রিজওয়ানের ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link