রোহিত শর্মা আসলে সবই পারেন। বয়সকে তিনি তোয়াক্কা করতে জানেন না, ফিটনেসকে তিনি বাঁধা মনে করার মানুষ নন। তিনি ৩৮ বছর বয়সেও অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি করে ফেলতে পারেন, তিনি চাইলেও এই বয়সে এসে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের চূড়ায় উঠে যেতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই রোহিত শর্মা লিখে ফেললেন ক্যারিয়ারের আরেক সোনালি অধ্যায়। ৩৮ বছর বয়সে এসে প্রথমবারের মতো উঠে গেলেন আইসিসি ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাংকিংয়ের এক নম্বরে!
ভারতের বর্তমান টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিলকে টপকে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন রোহিত। অস্ট্রেলিয়া সফরে নিষ্প্রভ ছিল গিলের ব্যাট, উল্টো দিকের আলোটা যেন সবটুকু রোহিতের জন্যই জ্বলেছিল। অভিজ্ঞতার আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়ক।

৩৮ বছর ১৮২ দিন বয়সে রোহিত শর্মার কীর্তি এক অনুকরণীয় আদর্শ। কারণ, এর আগে কেউই এই বয়সে শীর্ষস্থান ছুতে পারেননি, পেরেছেন রোহিত শর্মা। সর্বশেষ, ২০১১ সালে ৩৮ বছর ৭৩ দিন বয়সে টেস্ট র্যাংকিংয়ের চূড়ায় উঠেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, কিংবদন্তিতুল্য সেই পূর্বসূরীকে পেছনে ফেললেন তিনি।
৫০ ওভারের ক্রিকেটে দেড় বছর পর ফিরে এসে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে রোহিতের ব্যাট যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—সময় তাঁর ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিন ইনিংসে ২০২ রান করেছেন। আর সিডনিতে সিরিজের শেষ ম্যাচে ১২৩ রানের সেই অপরাজিত ইনিংস—যা ভারতকে এনে দেয় ৯ উইকেটের জয়, আর রোহিতকে এনে দেয় স্বপ্নের শিখর।
এটাই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ৩৩তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০ তম তিন অংকের ম্যাজিকাল ফিগার। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তার রেটিং পয়েন্ট বাড়ল ৩৬, ৭৪১ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৭৮১। আর তাতেই শুভমান গিলকে পিছনে ফেলে উঠলেন এক নম্বরে। গত বছর থেকেই তালিকার শীর্ষে থাকা গিল, তিন ম্যাচে ৪৩ রান করে নেমে গেলেন তৃতীয় স্থানে।

এই অর্জন যেন দীর্ঘতম এক ক্রিকেট যাত্রার স্বর্ণালী পরিণতি। এই প্রত্যাবর্তন এক যুগের পুনর্জন্ম ঘটাল। রোহিত শর্মার ৩৮ বছর বয়সেও যেন প্রমাণ করলেন—শ্রেষ্ঠত্ব বয়সের হাতে বন্দি নয়, বরং অনমনীয় ইচ্ছার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যেন পুরো বিশ্বকে মনে করিয়ে দিলেন—‘হিটম্যান’ এখনো খেলাটা শেষ করেননি।










