চাপের দেয়াল ভেদ করে ব্যাটটাকে উঁচিয়ে ধরলেন জো রুট, জানান দিলেন তিনি পেরেছেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শতক না পাওয়ার আক্ষেপ তিনি ঘুচিয়ে ফেলেছেন। অজি দাপটের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পূর্ণতা পেয়েছেন।
গোলাপি বলে তখন মিচেল স্টার্ক আগুনের গোলা ছুঁড়ছেন, তাতেই অসহায় হতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। আবারও আশঙ্কা, তবে কি এ যাত্রায়ও আলোর মুখ দেখবে না ইংলিশরা? ধ্বংসস্তূপের মাঝ দিয়ে এগিয়ে এলেন একজন, এগিয়ে এলেন জো রুট স্বয়ং। বললেন, ভয় কি, আমি তো আছি।
ঠান্ডা মগজে আর ওই খুনে ব্যাটটাকে সঙ্গী করে লড়তে থাকলেন বাইশ গজে। লড়তে থাকলেন অজি বোলারদের বিপক্ষে, লড়তে থাকলেন ধেয়ে আসা অজানা এক শঙ্কার বিপক্ষে। পাঁচ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলা ইংলিশদের স্কোরকার্ডটাকে মেরামত করতে থাকলেন একপ্রান্তে, সঙ্গী হিসেবে পেলেন জ্যাক ক্রলিকে।

মাঝপথে হারিয়ে ফেললেন সঙ্গীকে। তবুও তাঁর নীরব বিপ্লবটা চলতেই থাকল। ফিফটি পেরিয়ে শতকের দিকে ধাবিত হলেন ধীরে ধীরে। একেকটা শট যেন মুখরিত করে রাখছিল গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকদের।
সব কিছু যখন অনুকূলে, তখনই গোলমাল পাকিয়ে বসলেন, সেট হওয়া বেন স্টোকসকে রান আউটে কাটা পড়তে হলো তাঁরই ভুলে। বুঝতে পেরেই সাজঘরের পথে হাঁটতে থাকা স্টোকসের পিঠ চাপড়ে দিলেন, একটা আশ্বাস বার্তা দিলেন, ভয় নেই, আমি এখনও উইকেটে আছি।
শেষমেষ কথা রাখলেন রুট। একপাশে সত্যিই থাকলেন ভরসা হয়ে। ক্যারিয়ারের ৪০তম শতক হাঁকিয়ে বলে গেলেন, চাপটাকে সৌন্দর্য দিয়েও ঘায়েল করা যায়। অজিদের ভয় ধরানো বোলিংয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়েও শান্ত থাকা যায়, নিজের জাত চেনানো যায়।












