নিউজিল্যান্ড নয়, রস টেলর এখন সামোয়ার

ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময় বলবে। কিন্তু, একথা নিশ্চিত—রস টেইলরের এই প্রত্যাবর্তন ক্রিকেট দুনিয়ার ক্যালেন্ডারে একেবারেই ভিন্নরকম এক তারিখ হয়েই থাকবে।

রস টেলরের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে, রীতিমত খেলবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তবে, এর চেয়েও বড় ব্যাটার হল নিউজিল্যান্ড নয়, এবার সামোয়ার হয়ে ২২ গজে ফিরে আসতে চলেছেন তিনি।

ক্রিকেট দুনিয়ায় খবরটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। ৪১ বছর বয়সী রস টেলর আবার ফিরছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। কিন্তু ব্ল্যাকক্যাপসের জার্সিতে নয়। এই ফেরাটা ঘটছে সামোয়ার হয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গর্বের সাথে এই খবর জানিয়েছেন তিনি।

হ্যাঁ, সেই সামোয়া। নিউজিল্যান্ডের কাছেই ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র। ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা পাওয়া দেশ। আর সেখানেই মায়ের শিকড় থাকার কারণে টেলর পেয়েছেন প্রতিনিধিত্বের অধিকার।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এশিয়া ইস্ট প্যাসিফিক অঞ্চলের কোয়ালিফায়ার শুরু হবে আগামী মাসেই। সে আসরের জন্য ঘোষণা করা সামোয়ার দলে নাম এসেছে টেলরের।

এ যেন আকাশ থেকে পড়া খবর। এক সময়কার কিউই কিংবদন্তি, এবার আরেকটা জার্সিতে। তাও আবার পুঁচকে অজানা দল সামোয়ার হয়ে।

কিন্তু, সামোয়ার জন্য এটা নিছক এক ঘোষণাই নয়। এটা রীতিমত এক ধামাকা। এবার অন্তত ক্রিকেটে তাঁদের ব্র্যান্ড ভ্যালু আকাশ ছুঁয়ে ফেলল।

ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময় বলবে। কিন্তু, একথা নিশ্চিত—রস টেইলরের এই প্রত্যাবর্তন ক্রিকেট দুনিয়ার ক্যালেন্ডারে একেবারেই ভিন্নরকম এক তারিখ হয়েই থাকবে।

৪৫০ ম্যাচ খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—সব মিলিয়ে পূর্ণ এক যুগান্তকারী ক্যারিয়ার।
এর মধ্যে শুধু টেস্টই ১১২টি। শেষবার ব্ল্যাক ক্যাপস জার্সি গায়ে উঠেছিল ২০২২ সালের শুরুর দিকে।

তারপর দীর্ঘ নীরবতা, তবে সেটা শুধুই অবসর জীবন নয়। রস টেল আসলে অপেক্ষা করছে। আইসিসির নিয়ম বলছে, নতুন দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে হলে অপেক্ষা করতে হয় একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।

এপ্রিল থেকে সেই অপেক্ষার প্রাচীর ভাঙলেন টেইলর। এবার সামোয়ার হয়ে নাম লেখাতে পুরোপুরি যোগ্য। নিজেই বলছেন, ‘সবসময় ভেবেছিলাম, একসময় হয়তো কোচিং করব। ছোটদের ট্রেনিং দেব, ক্রিকেটের সরঞ্জাম দান করব। কিন্তু আবারও খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে ফিরব—এটা ভাবিনি।’

অক্টোবরে ওমানে বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এশিয়া-প্যাসিফিক বাছাইপর্ব। সামোয়ার গ্রুপে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ওমান আর পাপুয়া নিউ গিনি। প্রথম পর্বে তিনটি গ্রুপ, প্রতিটিতে তিনটি করে দল থাকবে।

প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দু’জন যাবে সুপার সিক্সে। সুপার সিক্স শেষে সেরা তিন দলই যাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে—যেখানে আয়োজক ভারত আর শ্রীলঙ্কা। রস টেইলর তাই শুধু ফিরে আসছেন না, খেলতে যাচ্ছেন ইতিহাস গড়ার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে।

Share via
Copy link