দুই ভিন্ন অর্থ ব্যবহারে হবে বিপিএলে নিলাম

নিয়ম-কানুন সব নির্ধারণ করে ফেলেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। এবার শুধু নিলাম আয়োজনের পালা। ১৭ নভেম্বর নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

জল্পনা-কল্পনা কাটিয়ে, নিলামই হতে চলেছে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল গঠনে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল, নির্ধারণ করে ফেলেছে সমস্ত নিয়ম কানুন। দেশীয় খেলোয়াড় ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে চার কোটি টাকা। আর বিদেশিদের ক্ষেত্রে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো খরচ করতে পারবে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলার।

সর্বশেষ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিপিএল নিলাম। এরপর লম্বা বিরতি দিয়ে এবারই ফিরছে নিলামের নিয়ম। মাঝে বেশ একঘেয়ে প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। এবার অন্তত মাঠের উত্তাপ ছড়ানোর আগেই বিপিএলে উষ্ণতা ছড়াবে নিলামের লড়াই।

বাংলাদেশি খেলোয়াড়দেরকে ভাগ করা হয়েছে ছয়টি ক্যাটাগরিতে। ক্যাটাগরি ‘এ’ থেকে ক্যাটগরি ‘এফ’ পর্যন্ত ছয় ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের। অন্যদিকে বিদেশি খেলোয়াড়দেরকে ভাগ করা হচ্ছে পাঁচভাগে। প্রতিটি স্তরে স্বাভাবিকভাবেই থাকছে ভিত্তিমূল্যের তারতম্য।

দেশীয় খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নূন্যতম ভিত্তিমূল্য রাখা হয়েছে ১১ লাখ টাকা। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে প্রতিটি ডাকে ৫ লাখ টাকা করে বাড়বে। ক্রমান্বয়ে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ডাকপ্রতি এই অর্থের পরিমাণ কমিয়ে ২০ হাজার করা হয়েছে।

অপরদিকে, বিদেশিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ৩৫ হাজার ডলার এবং নূন্যতম ভিত্তিমূল্য ১০ হাজার ডলার করেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। টাকার পাশাপাশি মার্কিন ডলার ব্যবহৃত হবে নিলামের ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে বিদেশিদের প্রতি ডাকে পাঁচ হাজার ডলার বাড়বে, ক্রমান্বয়ে সেটা এক হাজার ডলার হবে সর্বশেষ ক্যাটাগরিতে।

তবে নিলামের বাইরে সরাসরি দুইজন দেশীয় খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে পারবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। কিন্তু তাদের পারিশ্রমিক সেই নির্ধারিত সাড়ে চার কোটি টাকার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকছে। কিন্তু সরাসরি সই করানো বিদেশিদের পারিশ্রমিক, নিলামের সাড়ে তিন লাখ ডলারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অন্তত ১৩ স্বদেশী খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে হবে নিলাম থেকে। সরাসরি চুক্তিবদ্ধ দুইজন সহ সর্বোচ্চ ১৬ বাংলাদেশি খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াড সাজাতে হবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে। এছাড়া দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২২ জনের স্কোয়াড গঠন করার সুযোগ থাকছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর সামনে।

খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক প্রদানের নিয়মও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। চুক্তি সাক্ষরের সময় ২৫ শতাংশ, লিগ পর্বের খেলা শেষ হওয়ার আগেই ৫০ শতাংশ ও বিপিএল শেষ হওয়ার পরবর্তী এক মাসের মধ্যে বাকি থাকা ২৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে দিতে হবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে। পরবর্তীতে খেলোয়াড় রিটেনশনের নিয়মও রাখা হয়েছে। দুইজন করে দেশী-বিদেশী খেলোয়াড়কে রিটেইন করতে পারবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো।

এক্ষেত্রে সরাসরি চুক্তিবদ্ধ ও নিলাম থেকে ক্রয়কৃত- দুই ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ করতে বিসিবিও থাকবে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে টালবাহনা এড়াতে ও খেলোয়াড়দের প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন নিয়ম করা হয়েছে। এছাড়া নিলাম শেষ হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে নিজ নিজ দলের ফাইনাল স্কোয়াড জমা দিতে হবে বিসিবিতে।

নিয়ম-কানুন সব নির্ধারণ করে ফেলেছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। এবার শুধু নিলাম আয়োজনের পালা। ১৭ নভেম্বর নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে ২১ নভেম্বর নিলাম অনুষ্ঠিত হতে পারে। নিলাম ফিরছে, খেলোয়াড় ও ফ্রাঞ্চাইজির মাঝে স্বচ্ছতাও ফিরবে- এমন প্রত্যাশা অন্তত করাই যেতে পারে। আবারও ফিরুক বিপিএলের জৌলুস- সেটা কেই বা না চায়!

 

 

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link