প্রেমাদাসায় দানা বাঁধল নতুন বিতর্ক। রান আউটের বিতর্কে কেঁপে উঠল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। ওপেনার মুনিবা আলী রান আউটের ফাঁটে সাজঘরে ফিরলেও আদৌ তিনি আউট ছিলেন কি না – সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট।
ভারতের জোরালো এলবিডব্লিউ আপিলটা আম্পায়ার ঠান্ডা মাথায় নাকচ করে দিয়েছিলেন। আপিল হলো, প্রত্যাখ্যানও হলো। কিন্তু এর পর যা ঘটলো, তা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।

মুনিবা বুঝি ভেবেছিলেন, বল থেমে গেছে, বিপদ কেটে গেছে। কিছুটা হাঁটলেন ক্রিজ ছেড়ে। ফিল্ডারের থ্রো সরাসরি আঘাত করলো স্টাম্পে। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেল—বল লাগার মুহূর্তে তাঁর ব্যাট একবার মাটিতে ছুঁয়েছিল, কিন্তু বল স্টাম্পে লাগার ঠিক সময়ই সামান্য উপরে উঠেছিল। অনফিল্ড আম্পায়ারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল ‘নট আউট’। থার্ড আম্পায়ার ‘আউট’-এর সিদ্ধান্ত জানালেন।
মুনিবার চোখে অবিশ্বাস। রাগে আর হতাশায় ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন তিনি। আকস্মিক সাফল্যে ভারতও উল্লাসে ফেটে পড়ল। অথচ নতুন নিয়ম অনুযায়ী—যদি ব্যাট বা শরীর একবারও মাটিতে ছুঁয়ে যায়, এরপর ব্যাট উঠলেও ব্যাটারকে আউট ধরা হবে না। আইসিসির আপডেটেড সেই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা এই মৌসুম থেকেই।

তাহলে কেন আউট? এবার দৃশ্যপটে এলেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। মুখে ক্ষোভ, চোখে বিস্ময়। মুনিবাকে থামালেন মাঠ ছাড়ার আগে। এক পর্যায়ে আরেক ওপেনার সিদরা আমিনও জড়িয়ে গেলেন বিতর্কে। মাঠে তর্ক চললো চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে। খেলা থেমে গেল কিছুক্ষণ।
আম্পায়ারের ব্যাখ্যা স্পষ্ট, ব্যাটার বল স্ট্যাম্পে আঘাত হানার আগে ইচ্ছাকৃত ভাবে ব্যাট ওঠাতে পারবেন না। কিন্তু ফাতিমার মুখের ভঙ্গি বলে দিচ্ছিল, তিনি সন্তুষ্ট নন। শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্টের পরামর্শে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। মুনিবাও তখন কষ্টের হাসি হেসে ধীরে ধীরে সাজঘরের পথে।

মজার ঘটনা ঘটল পরে। ভারত এলবিডব্লিউয়ের রিভিউ নিলেই এতটা নাটক হয় না। রিপ্লেতে দেখা গেল, বল ইন-লাইন পিচ করেছিল, ফুলার লেন্থ ডেলিভারি, স্টাম্প বরাবর ঢুকছিল। তিনটি লাল, অর্থাৎ ভারত রিভিউ নিলে সেখানেও আউট হতেন মুনিবা!










