শচীনের এক উইকেটের মূল্য এক হাজার ডলার

ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বদৌলতে এখন অনেকসময়ই মজা করে ক্রিকেটারদের উইকেট কিংবা রান প্রতি মূল্য হিসাব করা হয়। কিন্তু ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অস্তিত্বও যখন ছিল না, তখন এমনই এক ঘটনা ঘটে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। শচীনের এক উইকেটের বিনিময়ে বোলার পেয়েছিল তৎকালীন মূল্যে এক হাজার মার্কিন ডলার।

ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বদৌলতে এখন অনেকসময়ই মজা করে ক্রিকেটারদের উইকেট কিংবা রান প্রতি মূল্য হিসাব করা হয়। কিন্তু ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অস্তিত্বও যখন ছিল না, তখন এমনই এক ঘটনা ঘটে গেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। শচীনের এক উইকেটের বিনিময়ে বোলার পেয়েছিল তৎকালীন মূল্যে এক হাজার মার্কিন ডলার।

ঘটনাটি বলতে গেলে ফিরে যেতে হবে ১৬ জুলাই, ২০০৪ সালে। ডাম্বুলায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ম্যাচের আগে আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা এক অভিনব ঘোষণা দিয়ে বসেন। তিনি ঘোষণা করেন, আরব আমিরাতের যে বোলার শচীন টেন্ডুলকারকে আউট করতে পারবেন, তাকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে ১০০০ মার্কিন ডলার।

​সেই সময়ে আরব আমিরাতের মতো দলের ক্রিকেটারদের কাছে ১০০০ ডলার ছিল রীতিমতো এক লটারি জেতার মতো। কিন্তু নামটি যে শচীন টেন্ডুলকার! এ তো আর চাট্টেখানি কথা নয়।

এই ঘোষণার প্রভাব দেখা যায় ম্যাচের শুরু থেকেই। ভারত আগে ব্যাট করতে নামলে প্রথম থেকেই যেন শচীনের উইকেট নিয়ে আমিরাত বোলারদের মধ্যে এক প্রকার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কে ড্রেসিং রুমে ফেরাতে পারেন ক্রিকেটের এই বরপুত্রকে!

ভারতীয় ইনিংসের অষ্টম ওভারের খেলা চলছে। বল হাতে দৌড়ে আসছেন বামহাতি মিডিয়াম পেসার আসিম সাঈদ। ক্রিজে তখন ১৮ রানে অপরাজিত শচীন। সাঈদের একটি ডেলিভারিকে মিড উইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করতে চেয়েছিলেন লিটল মাস্টার। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় উপরে। পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা ফাহাদ আহমেদ কোনো ভুল না করে তালুবন্দি করেন সেই বল।

স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি, কিন্তু উল্লাসে ফেটে পড়ে আরব আমিরাত শিবির। আসিম সাঈদ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না কী ঘটে গেছে! মাঠের সতীর্থরা তাকে ঘিরে ধরেন। সেই মুহূর্তে সাঈদ শুধু শচীনের উইকেটের আনন্দই পাননি, বরং পকেটে পুরে নিয়েছিলেন কাঙ্ক্ষিত সেই ১০০০ ডলারের বোনাস।

আসিম সাঈদের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এটি কেবল একটি উইকেট ছিল না, এটি ছিল তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। সেই ম্যাচে সাত ওভারে ২৫ রান দিয়ে ওই একটি উইকেটই নিয়েছিলেন তিনি। বিস্ময়কর তথ্য হলো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটিই ছিল সাঈদের প্রথম এবং শেষ উইকেট! এরপর তিনি আর কেবল একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, যেখানে তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য।

ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় আসিম সাঈদ অমর হয়ে আছেন এক বিরল পরিসংখ্যানের অধিকারী হিসেবে। তিনিই বিশ্বের একমাত্র বোলার, যার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম এবং শেষ শিকার স্বয়ং শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। শচীনের সেই প্রস্থান সাঈদকে পুরস্কারের সাথে সাথে দিয়েছিল ইতিহাসের এক সোনালী পাতায় নিজের নাম লেখানোর সুযোগ।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link