কবজি মোচড়ে ফ্লিক, বল চলে গেল স্টেডিয়ামের ছাদে। মোহাম্মদ সাইফ হাসানের ট্রেডমার্ক শট! আত্মবিশ্বাসের আগ্নেয়গিরি ফেটে বেড়িয়ে আসা লাভায় পরিণত হয়েছে সাড়ে পাঁচ আউন্সের ওই চর্মগোলক।
এশিয়া কাপের আত্মবিশ্বাস ক্যারি করে সাইফ বনে গেছে এক ফিয়ারলেস ক্যারেক্টার। তিনি জানেন তার সামর্থ্য আছে যেকোন সময় ম্যাচের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার। তাইতো তিনি অবলীলায় ইনিংসের ১৫ তম ওভারে রশিদ খানকে উপহার দিতে পারেন মেইডেন।
রশিদকে দেওয়া উপহারটা তিনি পরের ওভারেই পুষিয়ে নিলেন। বশির আহমেদকে পরপর দুই বলে দু’টো ছক্কা হাঁকিয়ে তিন পূর্ণ করেন নিজের ব্যক্তিগত অর্ধশতক। সেই সাথে আফগানিস্তানের ম্যাচ জয়ের সমস্ত সম্ভাবনাকে সমাধিস্ত করেছেন সাইফ হাসান। শেষ অবধি ৩৮ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত এক ইনিংস খেলে মাঠ ছেড়েছেন তিনি দলের জয় নিয়ে।

তাকে দেখে মনে হতে পারে তিনি হয়ত বদলে গেছেন। বদলে ফেলেছেন নিজের ব্যাটিং স্কিল, বাড়িয়ে ফেলেছেন নিজের ফুটওয়ার্ক। কিন্তু না, তার খেলার ধরণ কিংবা স্কিলে কোন পরিবর্তন আসেনি। তার পরিবর্তন পুরোটাই ঘটেছে মানসিকতায়।
তিনি এখন প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। নিজের উপর সৃষ্টি হয়েছে তার অগাধ আস্থা। নিজের শক্তিমত্তার উপর রয়েছে তার পূর্ণ আস্থা। স্রেফ এইটুকুই তো যথেষ্ট একজন ব্যাটারের রান করার জন্য। বীরেন্দ্র শেবাগেরও তো ছিল কতশত প্রতিবন্ধকতা। ফুটওয়ার্ক ছিল প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। স্রেফ আত্মবিশ্বাসের উপর ভর দিয়ে তিনি বনে গেছেন ক্রিকেট দুনিয়ার আগ্রাসী ওপেনারদের একজন।
সাইফও অন্তত হাঁটছেন সেই পথ ধরেই। এই মানসিক দৃঢ়তার স্থায়ীত্বকালকে দীর্ঘায়িত করাই মোহাম্মদ সাইফ হাসানের এখন মূল চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ ছয়টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসের মধ্যে তিনটিতে তিনি অর্ধশতক ছাড়ানো ইনিংস খেলেছেন। বড় বড় সব শটের পসরা সাজিয়েছেন প্রতিটি ইনিংসেই।

আগ্রাসন ছিল স্পষ্ট। স্পিনারদের বিপক্ষে তার ফ্লিক, স্টেট ড্রাইভ গুলো চোখের আনন্দ। সাইফকে শুধু থাকতে হবে ইতিবাচক। ভীষণ মেঘাচ্ছন্ন দিনেও তার বিশ্বাস রাখতে হবে নিজের উপরে। আড়ালেই যে সূর্য হাসছে, তার ব্যাটই যে সকল শক্তির উৎস।










