সৈকতই এখন বিশ্বসেরা আম্পায়ার!

শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, নামটা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসায় ভাসছে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে। এজবাস্টন টেস্টে দায়িত্ব সামলেছেন কড়া হাতে, তার বিপক্ষে নেওয়া ১১টি রিভিউয়ের মধ্যে মাত্র দুটি সফল হয়েছে।

শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, নামটা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসায় ভাসছে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে। এজবাস্টন টেস্টে দায়িত্ব সামলেছেন কড়া হাতে, তার বিপক্ষে নেওয়া ১১টি রিভিউয়ের মধ্যে মাত্র দুটি সফল হয়েছে।

ইংল্যান্ড-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টে অন ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন শরফুদ্দৌলা। বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে যশস্বী আউট নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি সেবার। এবারও তাই তো বাড়তি উত্তেজনা ছিল আম্পায়ারিং নিয়ে।

দুই দলের অধিনায়ক একের পর এক রিভিউ নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে, তবে সৈকতের জহুরী চোখে যে ভুলের সংখ্যা নিতান্তই কম। এমন কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন এই ম্যাচে যা সবাইকে হতবাক করেছে, বিস্ময় জাগিয়েছে!

 

সবচেয়ে সেরা ডিসিশন বোধহয় ছিল বেন স্টোকসকে দেওয়া আউটটি। চতুর্থ ইনিংসে তখন ক্রিজে বেন স্টোকস। ওয়াশিংটন সুন্দরের একটি বল স্টোকসের প্যাডে আঘাত করে। ভারতীয় প্লেয়ারদের আবেদনে আম্পায়ার সৈকত সাড়া দেন, তবে বিস্মিত হয়ে যান স্টোকস—তার মনে হয়েছে আগে বল ব্যাটে লেগেছে।

রিভিউ নিলেন, রিপ্লেতে দেখা গেল আগে প্যাডেই লেগেছে। একটা সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত আসলো আম্পায়ারের তরফ থেকে। ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে ভেসে আসলো একটা প্রশংসাবাণী—’এ ব্রিলিয়্যান্ট ডিসিশন বাই সৈকত।’ হার্শা ভোগলে নিজের টুইটারে শরফুদ্দৌলাকে নিয়ে লিখলেন, ‘এই ম্যাচে আম্পায়ারিং ছিল অসাধারণ। আপনি ক্রিস গ্যাফনির কাছ থেকে তো এমন মানের প্রত্যাশা করেনই, কিন্তু শরফুদ্দৌলা সৈকত দারুণ করেছে।’

একপাশে যখন আম্পায়ার হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন একজন, অন্য পাশে ঠিক ততটাই দুয়োধ্বনি শুনছেন আদ্রিয়ান হোলস্টোক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলেন। সেবার ছিলেন টিভি আম্পায়ারের দায়িত্বে, দ্বিতীয় টেস্টে আছেন অন ফিল্ডে।

অজিদের দ্বিতীয় ইনিংসের ৬৯তম ওভার চলছিল তখন। ৩য় বলে অ্যালেক্স ক্যারির বিপক্ষে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন করেন বোলার জোসেফ ও তার সতীর্থরা। তবে হোলস্টক তা নাকচ করে দেন। পরে রিভিউ নিলে দেখা যায় ক্যারি আউটই ছিল। তাই জোসেফ মজার ছলে এসে হোলস্টককে শেখাচ্ছিলেন কিভাবে আম্পায়ারিং করতে হয়।

এ নিয়ে অবশ্য অনেকে মজার ছলে এও বলেছেন হোলস্টককে সৈকতের কাছে আম্পায়ারিং শেখার জন্য পাঠানো হোক। কেউ পারিশ্রমিক না দিলে ওয়েস্ট নিশ্চয় সে ভার নিয়ে নেবে। সবকিছু পাশ কাটিয়ে রাখলে সৈকত যে কতটা দুর্দান্ত তা পরিসংখ্যান ঘাটলেই বোঝা যায়। এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ৪১ ডিসিশনের মধ্যে ৩১টিতেই জয়ী হয়েছেন তিনি। তাই তো বর্তমানে তিনি যে বিশ্বের অন্যতম সেরা আম্পায়ার তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link