বিধ্বংসী রুপে সালমান প্রস্তুত বিশ্বকাপের জন্য

বিশ্বকাপের জন্য সালমান প্রস্তুত। দলের বাকিদের সহয়তা পেলে আরও একবার পাকিস্তান হবে চ্যাম্পিয়ন, সে ভাবনাই হয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে তার মস্তিষ্ক জুড়ে।

একটা মতবাদ ছড়িয়ে আছে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলকে কেন্দ্র করে- পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে নড়বড়ে পারফরমার সালমান আলী আঘা। কিন্তু এ কথা যেন সত্য নয়, সে প্রমাণটা তিনি দিতে চাইলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে, নিজের খেলা শেষ ম্যাচটিতে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি বোঝাতে চাইলেন- ‘আমিও টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংটা করতে জানি’।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ১২ ওভারের ম্যাচে, লঙ্কান শিবির পাকিস্তানকে ছুড়ে দেয় ১৬১ রানের বিশাল টার্গেট। এই টার্গেট টপকাতে হলে পাকিস্তানের ওপেনারদেরই আগ্রাসী শুরুটা করতে হতো, ঠিক যেখানে দাসুন শানাকার ৯ বলে ৩৪ রানের ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটেছে সেখান থেকেই। কিন্তু পাকিস্তানের ওপেনাররা পারেননি।

তাই বলে তো অধিনায়ক হিসেবে সালমান হাল ছেড়ে দিতে পারেন না। তাকে তো দলের বাকিদের কাছে পৌঁছাতে হবে বার্তা। এদিন এক ভিন্ন সালমানের আবির্ভাব ঘটে বাইশ গজে। ৩৭৫ স্ট্রাইকরেটে চলে তার ব্যাট দুর্বার গতিতে। স্রেফ ১২টি বল তিনি টিকে থেকেছেন বাইশ গজে। এই স্বল্প সময়ে ৪৫ রানের ভীষণ কার্যকর ইনিংস খেলে গেছেন তিনি পরিস্থিতি বিচারে।

দলের বাকি ব্যাটারদের উপর থেকে চাপটা অনেকাংশেই কমিয়ে ফেলেছিলেন সালমান। কিন্তু বাকিরা আর জয়ের বন্দর অবধি পৌঁছাতে পারেননি। তবে সালমানের ব্যাটেও যেন আগ্রাসনের আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটে- সে প্রমাণটা মিলল বটে। পাঁচ খানা চার আর তিন খানা ছক্কায় তিনি সাজিয়েছিলেন নিজের ইনিংসটিকে।

যাদের অন্তত সন্দেহ ছিল তাকে নিয়ে, তাদের কাছে সালমানের জবাবটা এর থেকে তীব্র হওয়ার উপায় নেই। বিশ্বকাপের জন্য তিনি প্রস্তুত। দলের বাকিদের সহয়তা পেলে আরও একবার পাকিস্তান হবে চ্যাম্পিয়ন, সে ভাবনাই হয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে তার মস্তিষ্ক জুড়ে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link