অবধারিত সেরা স্যামসন

একের পর এক রান দিয়ে প্রমাণ করলেন যে তিনি শুধু বড় ম্যাচের খেলোয়াড়ই নন, দলের জন্যও বড় মনের নিবেদিত প্রাণ। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের তকমা তাঁর নামের পাশেই বেশি মানায়।

আপনা টাইম আয়েগা – সত্যি, সাঞ্জু স্যামসনের সময় চলে এসেছে। জেনারেশনাল ট্যালেন্ট তিনি, অবশেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রতিভা ফুল হয়ে ফুটল। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্ধারণে তাই একটুও বেগ পোহাতে হল না।

কেরালার ওয়ান্ডার বয়ের এক হাতে বিশ্বকাপ, আরেক হাতে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। এই একটা দিন দেখবেন বলেই তো কত সংগ্রাম, কত আক্ষেপ আর কত হতাশার রজনী কাটিয়েছেন। সব কিছুর জবাব দেওয়া হয়ে গেল মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে।

ক্যারিয়ার ডিফাইনিং তিনটা ইনিংস, টানা তিনটা ঝড়, প্রতিপক্ষে বুকে টানা তিন বিস্ফোরন – ব্যস দুই হাত দুপাশে ছড়িয়ে দিয়ে এবার সাঞ্জু স্যামসন বলতে পারেন, এই ক্রিকেট বিশ্ব আমার। এখন আমিই এখানে ছড়ি ঘোড়াবো।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে উঠল এই বিশ্বকাপে সাঞ্জুর পারফরম্যান্স। ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল এবং এরপর ফাইনাল। যখন দলের উপর চাপ অপরিসীম, তখন একমাত্র সাঞ্জু স্যামসন নিজের প্রতিভার জোরে দলের ব্যাটিংকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কোয়ার্টার ফাইনালে ৯৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেই তিনি দলকে জয়ের দুয়ারে পৌঁছে দিলেন। তার ধারাবাহিক রানের ধারা সেমিফাইনাল ম্যাচেও অব্যাহত থাকল। সেখানে তিনি ইংল্যান্ডের ৮৯ রানের বড় ইনিংস খেললেন, প্রতিপক্ষকে হতবাক করে দিলেন। বড় মঞ্চ, তীব্র চাপ, সবকিছু মিলিয়ে গেল সাঞ্জুর ব্যাটে।

এর সেই ব্যাট পূর্ণতা পেল ফাইনালে। এবারও সেই ৮৯ রান। একবারও সেঞ্চুরির জন্য তোয়াক্কা করলেন না, নিজেকে বিলিয়ে দিলেন দলের জন। একের পর এক রান দিয়ে প্রমাণ করলেন যে তিনি শুধু বড় ম্যাচের খেলোয়াড়ই নন, দলের জন্যও বড় মনের নিবেদিত প্রাণ। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের তকমা তাঁর নামের পাশেই বেশি মানায়।

Share via
Copy link