প্রত্যাশা পূরণের পথেই রয়েছেন সাকলাইন

সাকলাইনের জন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নিলামে রীতিমত লড়াই হয়েছে ব্যাপক। স্বাভাবিকভাবেই তার উপর ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের।

১৪ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্যের আবদুল গাফফার সাকলাইন বিক্রি হয়েছিলেন ৪৪ লাখ টাকায়। তার জন্য বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নিলামে রীতিমত লড়াই হয়েছে ব্যাপক। স্বাভাবিকভাবেই তার উপর ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের। এছাড়া বিপিএলে তিনি কেমন করেন সেটা দেখা আগ্রহ ছিল দর্শকদের মাঝেও।

প্রথম দুই ম্যাচে থাকতে হয়েছিল উইকেটশূন্য। বিপিএলের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়ত একটু বেগ পোহাতে হয়েছিল সাকলাইনকে। কিন্তু সময়ের সাথে তিনি ঠিকই মানিয়ে নিয়েছেন। নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে। চার খানা উইকেট বাগিয়ে ঢাকার ব্যাটিং অর্ডারকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

চারজনই ছিলের ঢাকার ব্যাটিং অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রথমে উসমান খান ও সাইফ হাসানকে পরপর দুই বলে আউট করেন। এরপর ইমাদ ওয়াসিমের মত অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উইকেটও শিকার করেন সাকলাইন। শেষে তার ঝুলিতে যুক্ত করেন শামীম হোসেন পাটোয়ারির উইকেট।

প্রথম দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেও রানের লাগাম ঠিকই টেনে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে খরচ করেছিলেন মোটে ২২ রান। এরপর ঢাকার বিপক্ষে আরেক ম্যাচে তিন ওভারে ২০ রান বিলিয়েছিলেন তিনি। সুতরাং ঐ দুই ম্যাচেও মোটাদাগে ব্যর্থ হয়েছিলেন সাকলাইন সেটা বলবার উপায় নেই।

বরং রানের চাকায় লাগাম টেনে ধরাই সাকলাইনের মস্তবড় গুণ। এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে তিনি সে কাজটা ধারাহিকভাবে করে দলকে ফাইনাল অবধি তুলেছিলেন। বিশ ওভারের সেই টুর্নামেন্টে সাকলাইনের ইকোনমি ছিল ৬.৫৭। এরপর এনসিএল টি-টোয়েন্টিতেও তিনি এই কৃপণতা বজায় রেখেছিলেন সাতের ঘরে রান বিলিয়ে।

অতএব তাকে বলা যেতে পারে ‘ভার্সেটাইল’। দলের পরিকল্পনা অনুসারে তিনি কৃপণ বোলিং যেমন করতে পারেন, ঠিক উইকেট তুলে নিতেও জানেন। তার স্লোয়ার ও কাটার ধুম্রজালের সৃষ্টি করতে পারে। টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে উঠে এসেছেন সাকলাইন- এমন একটা মতবাদ থাকলেও, সাকলাইন নিজেই জানিয়েছেন প্রায় ৭-৮ বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেই তবে এখানটায় এসেছেন সাকলাইন।

ঝড়ে যাওয়ার জন্য নিশ্চয়ই তার এমন আগমন নয়। বেশি দেরীতে ফোঁটা ফুলের সুবাস যেন হয় দীর্ঘস্থায়ী- সে প্রচেষ্টাতেই রয়েছেন সাকলাইন। তবে সেজন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি তাকে যেতে হবে নিবিড় পরিচর্যার মধ্য দিয়ে। তার প্রতি বিসিবির সুনজর কতদিন অবধি অব্যাহত থাকে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে পারফমেন্সের ধারা বজায় রাখতে পারলে তাকে এড়িয়ে যাওয়া হবে দুষ্কর।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link