ইউরোপীয় ফুটবলের ঝকঝকে মঞ্চে যখন অর্থের টানাপড়েন তুঙ্গে, তখন ফরাসি ফুটবলের অন্ধকার আকাশে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে সৌদি প্রো লিগ। তবে এবার আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বা নেইমারের মতো ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকা মহাতারকা নয়, সৌদির নজর এখন ফ্রান্সের উদীয়মান তরুণ তুর্কিদের দিকে।
মোনাকো, রেন কিংবা রেইমসের মতো ক্লাবগুলো যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন মরুদেশের এই নতুন রণকৌশল তাদের জন্য হয়ে উঠেছে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি।
চীন বা আমেরিকার ফুটবল বিপ্লব যেভাবে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছিল, সৌদি আরব সেই পথে হাঁটতে নারাজ। কেবল গুটিকয়েক মহাতারকা দিয়ে লিগের মানোন্নয়ন সম্ভব নয় বুঝে তারা এখন গড়ে তুলছে আগামীর ভিত।

অন্যদিকে ফরাসি ফুটবলের বর্তমান অবস্থা মোটেও সুখকর নয়। যে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে ১০০ কোটি ইউরো আয়ের স্বপ্ন দেখা হত, তার অর্ধেকও এখন পূরণ হয় না। বড় বড় স্পন্সর আর ব্রডকাস্টিং পার্টনাররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ক্লাবগুলোর আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।
মোনাকোর সিইও থিয়াগো স্কুরোর ভাষায়, “টিকে থাকতে হলে আমাদের কেনা খেলোয়াড়ের চেয়ে বিক্রির পাল্লা ভারী করতে হবে।” উয়েফার আর্থিক কড়াকড়ি থেকে বাঁচতে বড় কোনো তারকাকে বিসর্জন দেওয়ার বদলে সৌদি আরবের কাছে তরুণ খেলোয়াড়দের উচ্চদামে বিক্রি করাটাই এখন ক্লাবগুলোর কাছে বুদ্ধিমানের কাজ মনে হচ্ছে।
ফরাসি ফুটবলাররাও যেন সৌদিতে খেলতেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তরুণ খেলোয়াড়দের সৌদি পাড়ি দেওয়ার পেছনে কেবল কাড়ি কাড়ি টাকাই মূল কারণ নয়। মোনাকোর তরুণ প্রতিভা সাইমন বুয়াব্রের এজেন্টের মতে, ফ্রান্সে অনেক সময় প্রতিভাবান হয়েও সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হয়। সেখানে সৌদি আরবে তারা পাচ্ছেন নিয়মিত খেলার সুযোগ।

পাশাপাশি একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় টানও কাজ করছে। অনেক ফরাসি তরুণ খেলোয়াড়ই মুসলিম। করিম বেনজেমা যেমনটি বলেছিলেন, একটি মুসলিম প্রধান দেশে আপন মানুষদের মাঝে থাকা তাদের জন্য এক পরম পাওয়া।
মাঠে হয়তো ইউরোপের সেই চিরচেনা উত্তাপ এখনো মরুর বুকে পুরোপুরি পৌঁছায়নি, কিন্তু ফরাসি ক্লাবগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সৌদি আরবের এই বিনিয়োগ এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য বাস্তবতা। আবেগে হয়তো ফুটবল বাঁচে, কিন্তু আধুনিক ফুটবলের রুক্ষ জমিনে টিকে থাকতে গেলে প্রয়োজন সৌদি আরবের মতো বিশাল লগ্নি।










