২০০৮ সালের সেই আইপিএল, যখন ভারতীয় ক্রিকেট নতুন দিগন্তে পা রেখেছিল। ক্রিকেট হয়ে উঠছিল বিনোদন, টাকার ঝড়, সেলিব্রিটি গ্ল্যামার—কিন্তু মাঠের বাইরেই জন্ম নিল এক কুখ্যাত কাহিনি, যার নাম ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে চিরচেনা — ‘স্ল্যাপগেট’।
হরভজন সিং আর এস শ্রীশান্ত। দুজনেই তখন জাতীয় দলের তারকা। একদিকে হরভজনের আগুনে মেজাজ, অন্যদিকে শ্রীশান্তের খুনসুটি ভরা আবেগ—দুজনের সংঘাত সেদিন তৈরি করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অফ-ফিল্ড নাটক।
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের পডকাস্টে ললিত মোদি হাজির হতেই বেরিয়ে আসে বহু প্রতীক্ষিত ভিডিও ক্লিপ। ঝাপসা হলেও অচেনা নয়—ক্যামেরায় ধরা পড়েছে হরভজনের হঠাৎ ক্ষোভ, আচমকা চপেটাঘাত, শ্রীশান্তের হতবাক চেহারা, আর সতীর্থদের শান্ত করার ব্যস্ততা।

প্রশ্ন আসতে পারে, হরভজনকে কি আগে উসকে দিয়েছিলেন শ্রীশান্ত? শাস্তি হিসেবে পাঁচ ওয়ানডে নিষেধাজ্ঞা কি তখন সঠিক ছিল? নাকি এত বছর পরও ভিডিওটা অন্ধকার ভল্টেই থেকে যাওয়া উচিত ছিল? প্রশ্ন রয়ে গেছে, উত্তর মিলেনি।
বাস্তবতা হল—দুই ক্রিকেটারই অনেক আগেই এগিয়ে গেছেন। শ্রীশান্ত অবশ্য স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পিছিয়ে গেছেন। হরভজন নিজেই স্বীকার করেছেন অনুশোচনা, শ্রীশান্ত আবার বহুবার হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন সাক্ষাৎকারে। এমনকি টিভি শোতেও তাদের একসঙ্গে মজা করতে দেখা গেছে।
আলোচিত-সমালোচিত সেই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গুঞ্জন। কেউ বলল, শ্রীশান্ত প্ররোচনা দিয়েছিলেন। কেউ বলল, হরভজনের আচরণ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। টিভি চ্যানেলে অসংখ্য বিতর্ক, ভক্তদের মাঝে হাজারো গল্প, মিম আর ব্যঙ্গচিত্রে জায়গা করে নেয় ‘স্ল্যাপগেট’।

অথচ, সত্যিকারের সেই দৃশ্যটা সবার আড়ালেই ছিল। তবে, হঠাৎ করে সেদিনের ফুটেজ সামনে চলে আসায় ১৭ বছরের পুরনো গল্প হঠাৎ একেবারে নতুন লাগছে।
যদিও, সমালোচনা পিছু ছাড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলেছেন খোদ শ্রীশান্তের স্ত্রী ভূবনেশ্বরী কুমারি। ২০০৮ সালের বহু আগের ঘটনাকে আবারও টেনে সামনে আনার জন্য তিনি একহাত নিয়েছেন ললিত মোদি ও মাইকেল ক্লার্ককে।
তাঁর অভিযোগ, অতীতের এমন স্পর্শকাতর কাণ্ড নতুন করে উসকে দেওয়ার ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে দুই ক্রিকেটারের স্কুলগামী সন্তানদের ওপরও। ভূবনেশ্বরীর ভাষায়, এ কাজটি হৃদয়হীন, জঘন্য ও সম্পূর্ণ অমানবিক।











