শাহীন বনাম আমির, কে আসল এশিয়ান চ্যালেঞ্জার?

এখানে তাই আর কোনো তুলনাই চলে না। ‘ইগল’ শাহীনই পাকিস্তানের আসল ভরসা। যদি নিজের সেরা ছন্দে থাকেন, তবে ট্রফি হাতে ওঠার স্বপ্ন একেবারেই অসম্ভব নয়।

সবাই বলছে — এশিয়া কাপে ভারত ফেভারিট। তবে, পাকিস্তানের ভরসা এক নামেই — শাহীন শাহ আফ্রিদি! সাম্প্রতিক ফর্ম সুবিধার না হলেও পাকিস্তান বিশ্বাস করে — টাইগার জিন্দা হ্যায়!

শাহীন শাহ আফ্রিদি যদি ছন্দে থাকেন, তবে পাকিস্তানকে থামানো কঠিন। পাকিস্তানের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে এই বাঁহাতি পেসারের ওপর — তবে শাহীনের আগে আরেকজন পেসার ছিলেন যিনি বড় টুর্নামেন্টে সবসময় আলোচনায় থাকতেন—মোহাম্মদ আমির।

বহুজাতিক এই এশিয়া কাপের আসরে দুর্দান্ত রেকর্ড ছিল তাঁর। প্রশ্ন উঠছে, দু’জনের মধ্যে কে এগিয়ে? কাগজে-কলমে কি শাহীন এগিয়ে গেছেন, নাকি এখনও আমিরের রেকর্ড মজবুত অবস্থানে আছে?

উইকেট শিকারে শাহীন এগিয়ে অনেকখানি। আট ম্যাচে ১৪ উইকেট! আমির খেলেছেন সাত ম্যাচ, পেয়েছেন মাত্র সাতটি উইকেট। তাও সব এসেছিল ২০১৬ এশিয়া কাপে। ২০১৮-তে ছিলেন একেবারেই ব্যর্থ।

শাহীন স্ট্রাইক রেটে এগিয়ে আছেন অল্পের জন্য। তবে ইকোনমির দিক থেকে আমির খানিকটা ভালো। কিন্তু উইকেট শিকারের দিকটিই আসল মাপকাঠি, আর সেখানে শাহীন স্পষ্টতই আমিরকে ছাড়িয়ে গেছেন।

এশিয়া কাপের ওয়ানডে ফরম্যাটের রেকর্ডও বলছে—শাহীন একতরফা সেরা! শাহীন খেলেছেন আট ম্যাচ, তুলেছেন ১৪ উইকেট। অন্যদিকে আমির তিন ম্যাচে একটি উইকেটও পাননি!

টি–টোয়েন্টি পরিসংখ্যান দিয়ে দু’জনকে তুলনা করা যায় না, কারণ শাহীন এখনও এশিয়া কাপে কোনো টি–টোয়েন্টি খেলেননি। তবে সামগ্রিকভাবে, বিশেষ করে ওয়ানডে রেকর্ডে শাহীন অনেকটাই এগিয়ে।

উইকেট সংখ্যা, স্ট্রাইক রেট—সব ক্ষেত্রেই তিনি আমিরকে ছাড়িয়ে গেছেন। একমাত্র ইকোনমিতে সামান্য এগিয়ে ছিলেন আমির। কিন্তু, একজন ফাস্ট বোলারের মূল কাজ উইকেট তোলা, আর সেই কাজটাই নিয়মিত করে যাচ্ছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।

এখানে তাই আর কোনো তুলনাই চলে না। ‘ইগল’ শাহীনই পাকিস্তানের আসল ভরসা। যদি নিজের সেরা ছন্দে থাকেন, তবে ট্রফি হাতে ওঠার স্বপ্ন একেবারেই অসম্ভব নয়।

Share via
Copy link