অলরাউন্ডার নামক রাজত্বের অধিপতি সাকিব

খুব অল্প কিছু নামই আছে যারা বছরের পর বছর নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে সেই বিরল তালিকার শীর্ষেই বারবার উঠে আসে একটি নাম 'সাকিব আল হাসান'।

আধুনিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা সবচেয়ে দুর্লভ গুণগুলোর একটি। ফর্ম আসে-যায়, সময় বদলায়, কিন্তু খুব অল্প কিছু নামই আছে যারা বছরের পর বছর নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে সেই বিরল তালিকার শীর্ষেই বারবার উঠে আসে একটি নাম – সাকিব আল হাসান।

আইসিসি ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসে তাকালে সাকিবের উপস্থিতি যেন রীতিমত এক বর্ণিল ছবি। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো আইসিসি অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বরে আসেন তৎকালীন তরুণ এ বাংলাদেশি অলরাউন্ডার। সেই থেকে শুরু, ক্যারিয়ার জুড়ে অলরাউন্ডার তালিকার সবচেয়ে উপরের সারিটি ছিল যেন তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি।

২০০৯ এর পর ২০১০, ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ টানা পাঁচ বছর শীর্ষে ছিলেন মিস্টার বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস শীর্ষে এলেও এক বছর যেতে না যেতেই ২০১৫ সালে রাজা ফেরেন তাঁর স্বীয় আসনে। ২০১৬ সাল শেষেও তালিকার শীর্ষে নামটি ছিল মাগুরার সেই ফয়সালেরই। সবশেষ ২০২০ থেকে ২০২৩, টানা চার বছর অলরাউন্ডার র‍্যাংকিংয়ে রাজত্ব করেন সাকিব।

এই সময়ের মধ্যে অনেক অলরাউন্ডার এসেছেন, আবার হারিয়ে গেছেন। কেউ ব্যাটিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন, কেউ প্রদীপ জ্বেলেছেন বল হাতে। কেউ আবার স্বল্প সময়ে দুই ক্ষেত্রেই দ্যুতি ছড়িয়েছেন। কিন্তু ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই নিয়মিত প্রভাব রাখার ক্ষমতা প্রদর্শনের তালিকাটা খুবই সংক্ষিপ্ত।

এই ধারাবাহিকতা শুধু পরিসংখ্যানের সৌন্দর্য নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের আত্মপরিচয়ের অংশ। একটি দল যখন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের জায়গা খুঁজছে, তখন এমন একজন তারকা অলরাউন্ডারের স্থায়ী উপস্থিতি পুরো কাঠামোকেই ভরসা যুগিয়েছে।

আজ আফগানিস্তানের আজমতউল্লাহ ওমরজাই বা মোহাম্মদ নবির মতো নাম র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এলেও, সাকিব আল হাসানের দীর্ঘ শাসনকাল আলাদা গুরুত্ব বহন করে। কারণ এটি কেবল সময়ের একাংশ নয়, এটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অলরাউন্ডারদের রাজা হয়ে থাকার ইতিহাস।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link