১৬৯ দিন ফিরলেন। ফিরেই হতাশ হলেন। উইকেট উপড়ে গেল সাকিব আল হাসানের। ক্ষোভ ঝাড়তে চাইলেন, কিন্তু নিজেকে সংযত রাখলেন। অলরাউন্ডার হিসেবে বল হাতেও তো তার পারফরম করার তখনও বাকি।
ঠিকই সাকিব দেখালেন নিজের মুন্সিয়ানা। পেশওয়ার জালমির ব্যাটারদের কাঁধে উপর ছিল ১৩ ওভারে ১৫০ রানের লক্ষ্য ছোঁয়ার চাপ। সেই চাপকে আরও দ্বিগুণ করেছেন লাহোর কালান্দার্সের বোলাররা। সাকিব আল হাসানও যুক্ত হয়েছেন সেই দায়িত্বে।
যদিও তিনি উইকেটের দেখা পাননি। তবুও বল হাতে সেই পুরনো ঝলক দেখালেন। প্রথম ওভারে তার বল যেন বুঝতেই পারছিলেন না বাবর আজম। কোন মতে স্রেফ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রথম ওভারে সাকিবের খরচ মোটে পাঁচ রান।

কেউ হয়ত ভাবতেও পারবে না, ছয় মাস ধরে না খেলা, বোলিং অ্যাকশনের নিষেধাজ্ঞায় থাকায় একজন বোলার বাবরকে কঠিন সময়ের মুখোমুখি করছে। কিন্তু সাকিব ঠিকই করেছেন সে কাজ। এটাই সম্ভব সাকিবের ‘ক্লাস’। কথায় তো আছে, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’।
কিন্তু পরের ওভারে খানিকটা ছন্দপতন ঘটে সাকিবের। দু’টো ছক্কা হজম করতে হয়েছে তাকে। যদিও ততক্ষণে পেশওয়ারের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তবে সেই ওভারেও তিনটি ডটবল আদায় করেছেন সাকিব আল হাসান। দুই ওভারে চারটি ডট বল সহ, মোট ১৮ রান খরচা করেছেন সাকিব।
তবে তার এই দীর্ঘদিনের বনবাস শেষে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটা ততটাও রঙিন হল না। উইকেট পেলেন না, ব্যাটে রান পেলেন না। কিন্তু বল হাতে যে এখনও তিনি যেকোন দলের একাদশের অন্যতম ধূর্ত অস্ত্র হতে পারেন, সেটাই বোঝালেন আরও একটিবার।

প্রায় ছয় মাস বাদে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরলেন। বোলিং অ্যাকশন নিষিদ্ধ হয়েছে, সেখান থেকে তৃতীয় দফা পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন- এরপরই তিনি খেলতে নেমেছেন পাকিস্তান সুপার লিগ। এই ঝক্কি পেরিয়ে বল হাতে খুব একটা খারাপ করেছেন তিনি তা বলার উপায় নেই। এখন স্রেফ ব্যাট হাতেও দারুণ ইনিংস দেখার অপেক্ষা।











