সাকিবের আলো-ঝলমলে দিন!

সাকিব আল হাসান যেদিন খেলেন, আলো-ঝলমলে দিনের সবটুকু আলো কেড়ে নিতে পারেন। ক্যারিবীয় দ্বীপে আরও একবার সেটাই প্রমাণ করলেন। ব্যাটে-বলে বুঝিয়ে দিলেন এখনও সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি, এখনও ফুরিয়ে যাননি তিনি।

সাকিব আল হাসান যেদিন খেলেন, আলো-ঝলমলে দিনের সবটুকু আলো কেড়ে নিতে পারেন। ক্যারিবীয় দ্বীপে আরও একবার সেটাই প্রমাণ করলেন। ব্যাটে-বলে বুঝিয়ে দিলেন এখনও সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি, এখনও ফুরিয়ে যাননি তিনি।

প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৩৯ রান, স্ট্রাইক রেটটাও ১০০-এর নিচে। বল হাতে উইকেট সংখ্যা ছিল মাত্র এক। সিপিএলের এবারের আসরটা মনমতো হচ্ছিল না। ব্যাটে রান নেই, বল হাতে ঠিকঠাক সুযোগ মেলে না। তাই তো প্রশ্ন চলেই আসে, বয়সের ভার কি গ্রাস করে নিল সাকিবকে?

ক্যারিয়ারে যতবারই শেষের কথা উঠেছে, ততবারই তো জ্বলে উঠেছেন স্বমহিমায়। সেন্ট কিটসের বিপক্ষে অন্ধকার ভেদ করে আলো হয়ে জ্বললেন। বল হাতে ২ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১১ রানে তিন উইকেট, ব্যাট হাতে ১৮ বলে ২৫ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস। তাই তো সিপিএলের মঞ্চে ষষ্ঠবারের মতো হলেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ, বিদেশি প্লেয়ার হিসেবে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সেন্ট কিটসের বিপক্ষে ম্যাচে অনন্য এক মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন সাকিব। নামের পাশে ৪৯৯ টি-টোয়েন্টি উইকেট, আর তো মাত্র একখানা চায়। সেই অপেক্ষার অবসান হলো ম্যাচের ১৫তম ওভারের মাথায়। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে দিয়ে পৌঁছে গেলেন এলিট কোটায়।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৫০০ উইকেটের সাথে ৭০০-এর বেশি রান, এই রেকর্ড যে কেবলই সাকিবের। বাঁহাতি বোলার হিসেবে প্রথম কেউ যার ঝুলিতে ৫০০-এর বেশি উইকেট। যেন বিরল প্রজাতির এক ক্রিকেটার বাইশ গজে শাসনভার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই ম্যাচে ব্যাট হাতেও ফিরলেন চেনা মেজাজে। দুই চার আর এক ছয়ের সাহায্যে ১৮ বল খেলে করলেন ২৫ রান। তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আন্টিগা জয় পেল সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে।

অনেকদিন পর সাকিবের নিজস্ব একটা দিন। ফুরিয়ে যাওয়ার সমস্ত গুঞ্জন উড়িয়ে ‘রেকর্ড বয়’-এর আরও একটা রঙিন মুহূর্ত, এ যেন শেষ গন্তব্যে যাওয়ার আগে ট্রেনের বেজে ওঠা শেষ হুইসেল।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link