একটা নো লুক রিভার্স স্কুপ শট। বলের গতিপথ আর দেখতেই চাইলেন না শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ব্যাটটা উঁচিয়ে ধরে, হাওয়ায় আলতো ঘুষিতে উদযাপন করলেন নিজের ব্যক্তিগত ফিফটি। দলকে শেষ অবধি জেতাতে না পারলেও, ব্যক্তিগত একটা প্রাপ্তির বাক্সে টিক অবশ্য দিয়ে দিতে পারলেন শামীম।
দূর্দান্ত একটা ইনিংসে শেষ অবধি একাই লড়ে গেলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। দলের বাকি ব্যাটাররা ব্যর্থতার মিছিলে তাল মিলিয়ে স্লোগান তুলেছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন একমাত্র শামীম। তিনি শেষ অবধি চেষ্টা করতে চাইলেন। ম্যাচটাকে শেষ ওভার অবধি টেনেও নিয়ে গেলেন। রোমাঞ্চ ছড়িয়ে, স্নায়ুচাপ বাড়িয়ে ৬ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন শামীম পাটোয়ারী।
আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের দারুণ হাফসেঞ্চুরি সিলেট টাইটান্সের স্কোরবোর্ডে তুলে দেয় ১৭৩ রানের বিশাল সংগ্রহ। জবাবে ব্যাট করতে নামা ঢাকা ক্যাপিটালস পিছিয়ে যায় ইনিংসের একেবারে প্রথম ওভারে। সিলেটের পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরের প্রথম ওভারে কোন রানই নিতে পারেননি সাইফ হাসান। একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রথম ওভার মেইডেন যাওয়া মানেই তার আত্ম হননের সমান।

প্রথম ওভারে সৃষ্ট চাপ থেকে ঢাকার ব্যাটাররা কেউই বের হতে পারেননি। ৪৩ রান তুলতেই দলের সাজঘরে ঢাকার পাঁচ ব্যাটার। সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরে ঢাকার জয়ের স্বপ্নকে নিভু নিভু করে হলেও জ্বালিয়ে রেখেছিলেন শামীম। অনবদ্য এক ইনিংস উপহার দিয়ে গেছেন বা-হাতি এই ব্যাটার।
৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংসটি বিনোদনের খোরাক মিটিয়েছে বেশ ভালভাবেই। তাছাড়া ১৮৮.৩৭ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছে বলা চলে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শেষেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা বেজে উঠবে।
সেই বিশ্বকাপের স্কোয়াড বাছাইয়ের জন্য বিপিএলই একমাত্র মঞ্চ। শামীম সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দূর্দান্ত এক পারফরমেন্স প্রদর্শন করে গেলেন। দল না জিতলেও ব্যক্তিগত প্রাপ্তি ঠিকই পকেটে পুরতে পারলেন শামীম।












