স্টেডিয়াম ক্যামেরা তখন খুঁজে নিল শ্রেয়াস আইয়ারকে। তার চোখে মুখে, শরীরি ভাষায় তখন রাজ্যের দুশ্চিন্তা। কেননা মার্কো ইয়ানসেনের ব্যাট বল লেগে চলে গেল ফিল্ডারের কাছে। জয়ের জন্যে একরান প্রয়োজন, তবুও স্নায়ুচাপ বেড়ে গেছে শ্রেয়াসের কয়েকগুণ। কারণটাও স্পষ্ট, নিজের দায়িত্ব যে পুরোপুরি পালন করতে পারেননি তিনি।
না, তার ব্যাটে রান এসেছে। তিনি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন। কিন্তু ম্যাচ শেষ করে আসার গুরুত্বদায়িত্ব পালনে তিনি হয়েছেন ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, ড্রেসিং রুমে দাঁড়িয়ে ম্যাচ পরিস্থিতি কঠিন হতে দেখা তো ভীষণ পীড়াদায়ক। সেই পীড়ার আগুনেই পুড়ছিলেন শ্রেয়াস আইয়ার।
অথচ বাইশ গজে তিনিই কিছুক্ষণ আগে খেলে গেছেন দারুণ এক ইনিংস। দলকে জয়ের পথটা দেখাতে সহয়তা করেছেন। সেই পথকে আবার মসৃণ করেছেন প্রভসিমরান সিং। এই দুইজনের জুটিতেই চেন্নাই সুপার কিংসের ১৯১ রানের লক্ষ্যমাত্রা সহজেই টপকে যেতে চেয়েছিল পাঞ্জাব কিংস।

গেল মৌসুমেই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন শ্রেয়াস আইয়ার। এবারের আসরে আগে নিলামের টেবিলে নিজেকে বাজিয়ে দেখলেন। বেশ মোটা অংকের অর্থও বাগিয়ে নিলেন। কিন্তু অর্থের সাথে সাথে প্রত্যাশা ও দায়িত্বও তো বেড়েছে তার। সেই দায়িত্ব পালনে নিজের আপ্রাণ চেষ্টাই চালাচ্ছেন শ্রেয়াস।
এখন অবধি এবারের আইপিএলে চারটি হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। মজার ব্যাপার হল সেই চারটি ম্যাচের চারটিই জিতেছে পাঞ্জাব। অধিনায়ককে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়- সেই বাক্যের যথার্থতা প্রমাণ করছেন তিনি প্রতিনিয়ত। চেন্নাইয়ের বিপক্ষে অবশ্য কাজটা খানিক কঠিন ছিল।
চিপকে প্রচণ্ড আর্দ্রতায় ঘেমে-নেয়ে একাকার অবস্থা। সেই সাথে উইকেটে বৈরীতা ও খানিক পুরান বলের মুভমেন্ট- সবকিছু মিলিয়ে ১৯১ রান বেশ বড়সড় লক্ষ্য ছিল। কিন্তু সে লক্ষ্যে শ্বাস গলায় আটকে গেলেও দুই বল ও চার উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জিতেছে পাঞ্জাব কিংস।

৪১ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলা শ্রেয়াস তাই চাইলেই কৃতীত্ব নিজের বলে দাবি করতে পারেন। তার ১৭৫.৬০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি বাকি ব্যাটারদের আস্থা জুগিয়েছে। তাদেরকে কখনোই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে দেয়নি। অধিনায়ক হিসেবে এতটা দৃঢ় বলেই সম্ভবত নিলাম ঘরে তার জন্যে রীতিমত যুদ্ধ চলেছে। দাম উঠেছে তড়তড় করে। প্রতিটি ইনিংসে নিজের মূল্য বোঝাচ্ছেন শ্রেয়াস আইয়ার।











