প্রিন্স নয়, শুভমান গিল এখন ভারতের রাজা

যখন লোকেশ রাহুলের রক্ষণের দেয়ালে ফাটল ধরে, যখন করুণ নায়ারের রিডেম্পশন গরম রক্ত শীতল হয়ে যায়, যখন সকল সৌন্দর্য নিয়ে জয়সওয়াল বের হয়ে যান সবুজ গালিচা ছেড়ে, তখনও লড়ে যায় শুভমান গিলের ব্যাট, তখনও রয়ে যায় প্রিন্স থেকে রাজা হয়ে ওঠার লড়াই।

যখন লোকেশ রাহুলের রক্ষণের দেয়ালে ফাটল ধরে, যখন করুণ নায়ারের রিডেম্পশন গরম রক্ত শীতল হয়ে যায়, যখন সকল সৌন্দর্য নিয়ে জয়সওয়াল বের হয়ে যান সবুজ গালিচা ছেড়ে, তখনও লড়ে যায় শুভমান গিলের ব্যাট, তখনও রয়ে যায় প্রিন্স থেকে রাজা হয়ে ওঠার লড়াই। কখনও স্নিগ্ধ, শান্ত নদীর ঢেউ, কখনও বা ভরা পূর্ণিমায় বয়ে যাওয়া জ্বলোচ্ছ্বাস। শুভমান গিল যেন একের মধ্যে অনন্য।

প্রথম ফিফটি আসলো ১২৫ বলে, স্ট্রাইক রেট তখন ৪০ এর ঘরে। দ্বিতীয় ফিফটিটা আসলো ৭৪ বল খেলে। প্রথম দিনের আলো যখন ফুরিয়েছে, ব্যক্তিগত খাতায় তখন ১১৪ রান।

দ্বিতীয় দিনের সূর্য যখন এজবাস্টনে নিজের তেজ দেখাতে শুরু করলো, সেই সাথে গিলও জ্বলে উঠলেন স্বমহিমায়। যেখান থেকে শেষ করেছিলেন, যেন সেখান থেকেই শুরুটা হলো। দেড়শ রান, অর্থাৎ তৃতীয় ফিফটি যখন এলো, মাঝের সময়টাতে বল খেলেছেন ৬৪টি।

আর চতুর্থ ফিফটি পূরণ করতে খেলেছেন মাত্র ৪৮ বল। সময় যত গড়িয়েছে ততটাই রানের গতি বাড়িয়েছেন। একদম আদর্শ টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ। এক একটা মাইলফলক পূরণ করেছেন, তবুও অবিচল ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছুটেই চললো। কোনো তাড়া নেই যেন, মাঠটাই সবকিছু—এই বাইশ গজে আকড়ে পড়ে থাকতে হবে। তখন জীবনের লক্ষ্য শুধু ব্যাটে রান করা।

৩১১ বলে ২০০ রানের ইনিংস, জীবনের প্রথম দ্বিশতক হাঁকালেন শুভমান, যেন সবকিছুই নিজের করে নিলেন। ভারতীয় দলের অধিনায়কদের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিক।

যখন দায়িত্ব কাঁধে নিলেন, চারিদিকে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল! গিল আসলে যোগ্য তো? ব্যাট হাতে যে তেমন কিছু প্রমাণ করতে পারেননি। এমন একজনকে ভারত টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হলো কি?

জবাবটা দিলেন, সেঞ্চুরি করে ব্যাট উঁচিয়ে জবাব দিলেন। দায়িত্ব পেয়েই যেন আরও বেশি ধারালো হলো তার ব্যাট, যা দিয়েই চাইলেই যে কোনো কিছু নিমিষেই শেষ করে দেওয়া যায়। যা দিয়েই রেকর্ডের পর রেকর্ড করা যায়।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link