গড় সোজাসাপ্টা ১০। স্ট্রাইকরেট ৯০.৯০। এমন বিদঘুটে ব্যাটিং পরিসংখ্যান নুরুল হাসান সোহানের। এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ব্যর্থতার ভয়ংকর রুপটাই দেখছেন সোহান। আর তার এমন দুর্দিন বাংলাদেশ জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের জন্য ভীষণ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের একটা স্কোয়াড ঘোষণা করে দিয়েছে। সেখানে ব্যাকআপ উইকেটরক্ষক ও ফিনিশার রুপে দলের সাথে আছেন সোহানও। কিন্তু সেই সোহান নিদারুণভাবে ধুকছেন ব্যাট হাতে। দ্বাদশ বিপিএলে তিনি ছয় ইনিংসে ব্যাট করেছেন। এই ছয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ তার স্রেফ নয় রান।
ব্যাডপ্যাচ যেতে পারে যেকোন ক্রিকেটারের, কিন্তু এতটা বাজে ফর্ম একজন ব্যাটারের আত্মবিশ্বাসকে চুরমার করে দিতে পারে। বৈশ্বিক মঞ্চের সেই চাপটা সামলে, পারফরম করবার মত মানসিক দৃঢ়তা বিনষ্ট করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সোহানকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া হতে পারে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

তার বাজে পারফরমেন্স যে তাকে পীড়াতে রেখেছে, সেটা বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের মাঠের খেলাতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। কাগজে-কলমে সবচেয়ে শক্তিশালী দল এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্লে-অফ। সাথে যুক্ত হয়েছে টানা তিন পরাজয়ের বিষাদ। অতএব সবদিক থেকেই বিপর্যস্ত নুরুল হাসান সোহান।
এছাড়া বিগত বছরেও যে জাতীয় দলের হয়ে দুর্ধর্ষ পারফরম করেছেন সোহান, সেটা বলবারও উপায় নেই। বাংলাদেশের খেলা ৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ৯টি ম্যাচে তিনি নেমেছিলেন মাঠে। এই নয় ম্যাচে ১২৩.৭৬ স্ট্রাইকরেটে ১২৫ রান সংগ্রহ করেছেন। ফিনিশারের বৈশ্বিক মানদণ্ডে এই পরিসংখ্যান সন্তোষজনক নয়, তবে বাংলাদেশের মানদণ্ডে নেয়াহেত মন্দ নয়।
এখন তাই প্রশ্ন ওঠে, যে অফফর্মের কারণে জাকের আলী অনিক বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেলেন না। সেই একই দাঁড়িপাল্লায় ঠিক কি করে উৎরে গেলেন নুরুল হাসান সোহান? স্রেফ ওই পজিশনে অন্য কেউ নেই বলেই কি এমন সিদ্ধান্ত? সেক্ষেত্রে ইম্প্রোভাইজেশনের দিকে যেতেই পারত বাংলাদেশ। বাক্সে বন্দী চিন্তাধারণা থেকে আদোতে কি কখনো বের হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট?












