নেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। অপেক্ষায় আছেন, কখন আগের জনের ব্যাটিং শেষ হবে। তারপরেই তাঁর জায়গা মিলবে। জাতীয় দলে এবার সেই সৌম্য সরকারের ফিরে আসাটাও তেমনই। ঘরোয়া ক্রিকেট বড় কোনো পারফরম্যান্স নয়, বরং নির্বাক অপেক্ষা করে গেছেন। আরেকজনের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়েছেন। অবশ্য, এর আগে কেন বাদ পড়েছিলেন সেটা তিনি নিজেও জানেন না।
মিরপুরের অ্যাকাডেমি মাঠে নেটে এসেই প্রথম বলটা লিভ করলেন, অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল। পরে সুযোগ বুঝে ডিফেন্ড করলেন, অন ড্রাইভ করলেন, কাভার ড্রাইভ করলেন। স্লটে পেয়ে তুলে মারতে গেলেন কখনও। কোনোটা ব্যাটে বলে হল, কোনোটা হল না।

অনেকটা সৌম্য সরকারের প্রত্যাবর্তনের মতই। কখনও ফিরে এসে কাজে লাগান। কখনও কাজে লাগাতে পারেন না। এবার যেমন ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরে এসেই প্রথম সিরিজে পারফরম করলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রায় সেঞ্চুরি পেতে পেতেও পেলেন না।
এর অর্থ হল সৌম্য সরকার তার মাইডাস টাচ ফিরে পেয়েছেন, ফিরে পেয়েছেন তাঁর হারানো ব্যাটের জাদু। এবার সেটা ধরে রাখার পালা। সেজন্যই নেটে ঘাম ঝরাচ্ছেন সৌম্য সরকার। চলছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। এরপরই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। বিপিএল দিয়ে নিশ্চয়েই পছন্দের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও প্রত্যাবর্তনের স্বপ্নও দেখছেন তিনি।

সৌম্য সরকারকে আর তরুণ বলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন ১১ বছর হতে চলল। দলে থাকলে তাঁকে সিনিয়র ওপেনারই বলা যায়। এবার সেই দায়িত্বটা পালন করাও শিখে ফেলতে হবে সৌম্যকে। বয়স, ৩২ বছর হয়ে গেছে, সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারলে আরও বছর পাঁচেক জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়ার ক্ষমতা আছে তাঁর, প্রশ্ন হল সেই ক্ষমতাটা কি দেখাতে পারবেন সৌম্য, নাকি এই নেটে ব্যাটিংয়ের মতই আরেকজনের ফুরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করবেন?










