বাবর আজমকে নাখোশ করলেন স্টিভেন স্মিথ। লং অনে ঠেলে দেওয়া বাবরের শট, সজোরে চিৎকারে স্মিথ জানালেন ‘নো’। পরমুহূর্তেই পাওয়ার সার্জের ইশারা। বাবরের অসন্তুষ্টি চুলায় যাক। নিজের আত্মবিশ্বাসের স্ফুলিঙ্গকে আগ্নেয়গিরি বানালেন স্টিভেন স্মিথ। টানা চার ছক্কায় ৩২ রান আদায় করলেন স্মিথ। সিডনি থান্ডার্সের বিপক্ষে রসিকতাই করলেন যেন তিনি।
ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির জবাবে রীতিমত যেন বলে-কয়ে মৌসুমের দ্রুততম সেঞ্চুরি হাঁকালেন স্টিভেন স্মিথ। তারকাদের পারফরমেন্সের রাতে বিগ ব্যাশে ওয়ার্নার, বাবর আজম ও মিচেল স্টার্ককে পেছনে ফেলে সবার উপরে অনায়াসে রাখা যায় স্মিথের শতককে।
সিডনি সিক্সার্সকে টানা দুই ম্যাচ জিততে হবে। এমন ম্যাচে, ডেভিড ওয়ার্নার বনে গেলেন সিক্সার্সের যমদূত। ৬৫ বলে তার খেলা ১১০ রানের ইনিংসটি সিডনি সিক্সার্সের বুকে ওপর বোঝা চাপিয়ে দেয়। ১৯০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তো আর মামুলি নয়। কিন্তু দলে যখন থাকেন স্টিভেন স্মিথ, ‘তখন নো চিন্তা ডু ফুর্তি’।

পরিস্থিতি এতটাই পলকা বানিয়ে ফেলতে পারেন ডানহাতি এই অজি ব্যাটার। আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর স্মিথ বিগ ব্যাশে খুব একটা নিয়মিত নন। গত পাঁচ বছরে স্রেফ ১১টি ইনিংস খেলেছেন। ১৭৭.৪১ স্ট্রাইকরেটে ৬৯৯ রান নিজের নামের পাশে জুড়ে নিয়েছেন তিনি। এমন দুর্ধর্ষ পারফরমেন্সের বড়াইতে তিনি বাবর আজমের সিঙেল নেওয়ার ডাকেও সাড়া দেননি।
রায়ান হেডলির এক ওভারে টানা চার ছক্কায়, ৩২ রান তুলে ফেললেন স্টিভেন স্মিথ। করলেন না কোন কিছুর তোয়াক্কা। ‘ফিয়ারলেস মনস্টার’! এদিন হাঁকালেন ৯ ছক্কা। আরও পাঁচটি চারের মারে শতরানের ইনিংসটিতে স্ট্রাইকরেট ছিল ২৩৮। কাটায় কাটায় ১০০ রানে আউট হয়েছেন তিনি। তবে বাবরের সাথে মনমালিন্য হওয়ার পর উদ্বোধনে গড়েছেন ১৪১ রানের জুটি।
তাতে করে মিডল অর্ডার নড়বড়ে হয়ে গেলেও জয় বঞ্চিত হয়নি সিডনি সিক্সার্স। কৃতীত্ব ওই অতিমানবীয় স্মিথের আত্মবিশ্বাসী সত্ত্বার। বাবরকে ফিরিয়ে দেওয়া, এক ওভারে ৩২ রান আদায় করা, চাপকে চ্যালেঞ্জ জানানো দ্রুততম শতক হাঁকানো- সবকিছুতেই ফিনকি দিয়ে বেড়িয়ে এসেছে এক অদম্য দৃঢ় চরিত্রের রক্তিম চিত্র।












