তবু যেতে দিতে হয়…

হাতে যে আর অল্প ক’টা ‍দিন সময়ই বাকি। হয়তো সেটা মোটে দুই বছর। এই অল্প সময়েই যা জেতার সব জিতে নিতে দুই বন্ধুকে। জয়-বীরুর শেষ অভিযানের পর্দা উঠতে আর মাত্র সামান্য কটা দিন। ভাবতেই চোখ ভিজে যায় জলে। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজে - আভি না যাও ছোড়কার, ইয়ে দিল আভি ভারা নেহি!

তাঁদের মধ্যে তেমন কোনো মিল নেই। একজন যেন মেশিনের মত ব্যাট চালান, খুব বেশি ফিজিকাল। প্রত্যেকটা রানের জন্য তিনি ক্ষুধার্ত। আরেকজনের মধ্যে তেমন কোনো তাড়া নেই। তবে, আছে অলস সৌন্দর্য। বলটার জন্মই হয়েছে এই ভদ্রলোকের বাউন্ডারি হজম করার জন্য। দৌঁড়ানোতে তিনি খুব বেশি মনোযোগ দেন না।

অথচ, সেই দু’জন যখন একসাথে খেলেন, তখন বারবার দর্শকদের অ্যাড্রেনালিন রাশ হয়, প্রতিপক্ষের বুকে ভয় বাড়ে। স্যোশাল মিডিয়ায় মুহুর্মুহু পোস্ট হয়, টেলিভিশনের টিআরপি বাড়ে। বিশ্বের ক্রিকেটাঙ্গন কেঁপে ওঠে, কি ভূবনভোলানো এক দৃশ্য। দুই বিপরীত মেরুর মিলন একারণেই বারবার হয়।

বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার বোঝাপড়াটাও এমনই। সেটা যখন রান করেন এক সাথে তখন, যখন আউট হয়ে ফিরে যান তখনও। এই যেমন মার্কো ইয়ানসেনের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ফিরে গেলেন রোহিত, যাওয়ার আগে কোহলির কাছে গেলেন, কোহলি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ব্যাটে লেগেছে?, রোহিত না সূচক মাথা নাড়লেন। কোহলি নির্বাক মুখেই বুঝিয়ে দিলেন, সাজঘরে ফিরতেই হবে।

রোহিত ফিরলেন, দ্বিতীয়বার ভাবলেন না, কোনো আক্ষেপ করলেন না। তাঁদের ভরসার জায়গাটাই এমন। বিশ্বাসের মানটা এমনই এক সাত আসমানে দাঁড়িয়ে। যেখানে কোহলির চোখ দেখে রোহিত বুঝে যান কি করতে হবে। কিংবা রোহিতও জানেন, তিনি ফিরলেও রেখে এসেছেন কোহলিকে যিনি নামের মত কাজটাও বিরাট করতে পারেন।

ডাউন আন্ডারে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন গোহাটিতে শুরু করলেন। একজন আরেকজনের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে, স্ট্রোক প্লের নির্দশন দেখিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক! আর কি নিৃশংস আগ্রাসন -আর চাপা একটা আক্ষেপ! কেন ওয়ানডে বাদে বাকি দুই ফরম্যাটে তাঁরা খেলেন না! তাঁদের এক সাথে খেলতে দেখাটাই তো একটা লাইফ টাইম এক্সপেরিয়েন্স।

১৮ ওভার এক বল এক সাথে থাকলে দু’জনে। সেখানে দু’জনই হাফ সেঞ্চুরি পেলেন। ‍দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে চলে এল ১৪৬ রান। কি ভয়ঙ্কর এক শাসন! ভারতীয় ক্রিকেটের চিরকালীন দুই রাজাকে যেন নতুন কোনো রাজ্য জয়ের নেশা পেয়ে বসেছে।

হাতে যে আর অল্প ক’টা ‍দিন সময়ই বাকি। হয়তো সেটা মোটে দুই বছর। এই অল্প সময়েই যা জেতার সব জিতে নিতে দুই বন্ধুকে। জয়-বীরুর শেষ অভিযানের পর্দা উঠতে আর মাত্র সামান্য কটা দিন। ভাবতেই চোখ ভিজে যায় জলে। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজে – আভি না যাও ছোড়কার, ইয়ে দিল আভি ভারা নেহি!

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link