চোখের জল আর ধরে রাখতে পারলেন না সিলেট টাইটান্সের অন্যতম কর্ণধার, ফাহিম আল চৌধুরি। উইকেট উদযাপন করতে করতেই তিনি যেন হয়ে গেলেন আবেগ আপ্লুত। দলের ভাল পরিস্থিতি তার ভেতরকার অনুভূতিকে চোখের জলে রুপান্তর করে সামনে নিয়ে এলো। এটা কি ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ নয়?
ফাহিম আল চৌধুরি, এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বিতর্কিত ব্যক্তিদের তালিকায় যুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের বিপক্ষে বিরুপ মন্তব্য করে বসেছিলেন। সেই সময় সেই ঘটনা নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল বটে। তাছাড়া, তার ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেওয়ার মন্তব্য নিয়েও হয়েছে হাসিঠাট্টা। তিনি বলেছিলেন যে তার দল সেমিফাইনালে উঠলে তিনি ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে বিশ্বমানের খেলোয়াড় নিয়ে আসবেন।
সেই কথা ফাহিম ও তার দল রেখেছে বটে। এলিমিনেটর শুরুর আগেই দলের ডেরায় তারা ভেড়ায় ক্রিস ওকস ও স্যাম বিলিংসের মত খেলোয়াড়কে। আগে থেকেই দলে ছিলেন মঈন আলী। অথচ ফাহিম আল চৌধুরী বনে গিয়েছিলেন বিদ্রুপের পাত্র। সেই ফাহিম ভেসে গেলেন অনুভূতির প্রবল জোয়ারে।

এবারের বিপিএলে কাগজে-কলমে সবচেয়ে শক্তিশালী দল ছিল রংপুর রাইডার্স। শিরোপার দাবিও তারাই জানাচ্ছিল বেশ জোরালভাবে। সেই দলের বিপক্ষে এলিমিনেটরে সিলেট টাইটান্সের দূর্দান্ত শুরু। ৬৩ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় রংপুর রাইডার্স। খুশদিল শাহ পালটা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ১৯ বলে ৩০ রান করা খুশদিলকে থামান সিলেটের নাসুম আহমেদ।
১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে খালেদ আহমেদের হাতে ক্যাচ দেন খুশদিল। আর সেই উইকেট উদযাপন করতে লাফিয়ে ওঠেন। আঙুল উঁচিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে করতেই আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এরপর ক্যামেরার লেন্স থেকে চোখের জল আড়াল করার চেষ্টাও করেন ফাহিম আল চৌধুরি। এতেই বরং ফুটে ওঠে দলের প্রতি তার টান, সমালোচনার জবাব দেওয়ার একটা বিষয়ও ঠিক তখন মাথায় ঘুরেছে নিশ্চয়ই।
উদ্ভট সব মন্তব্য বাদ দিলে, সিলেট টাইটান্সেরর অন্যতম কর্ণধার দলটাকে যে ওউন করেন সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বটে। যতক্ষণ অবধি ক্রিকেট বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন না, ততক্ষণ অবধি এই ফাহিমদের উপর ভরসা করা যায়। ক্রিকেট যাদের জন্য স্রেফ ব্যবসা নয়।












